আছা! তুমি কি ফাল্গুন ?
৮ তারিখের সেই অগ্নিঝরা অপরাহ্ণ
তুমিই কি ঋতুরাজ বসন্ত ?
তমসা চিড়ে জেগে উঠা সবুজ সমারোহ !
তব ধন্য ওহে তুমি, সুপ্রসন্ন তোমার বরাত!
তোমাতেই তিরোধানের মূর্ছনা,
আবার হাসিলে তুমি, হাসে আমার ভাই
রফিক, জব্বার আর সালামেরা।
মাঘ এর পরে নগ্ন গাছের মগডালে
মহুয়া আর শিমুলের হাসিতে,
যেন মনেহয় আমার ভাই ওহিউল্লাহ
অপলক আঁখিতে মনোহর হাসি হাসছে !
কোকিলের মিষ্টি কণ্ঠ
আকাশ ছুঁই ছুঁই করে,
যেন দোহার সেজে আউয়াল, সালামেরা
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই, বাংলা চাই ধুয়া বলে!
উদাস বিকেলে দক্ষিণা সমীরে
আখিতে নামে তন্দ্রা,
এই বুঝি জিন্নাহর প্রতিবাদে হাক ভাসছে
‘না, না মানি না, মানব না’।
আকস্মিক চমকিয়া দেখি চারিপাশ
কে শুধালো এ অমিয় সুধা? আপনার কর্ণ পরে,
দুঃছাই! এ যে বসন্ত এসেছে
পাপিয়া ডাকছে দিগন্তের ওই পাড়ে।
বসস্ত তুমি তো কিংবদন্তির নয়নমণি
প্রাণহারা দামালের আরেক প্রসূতি,
তোমার বরেই ভাষাশহিদেরা অমর হোক
যাক না কেটে যুগ হতে শতাব্দী।
কভু যদি হাজার কাল পরে
বুলি বৃত্তান্ত হয় বিকৃত, শহীদরে যদি না চিনে জাতি।
তব বাহক হে তুমি ধরিয়া রাইখো
আমার ভাইয়ের রক্তমাখা কান্নাজড়া স্মৃতি!

