জীবন মানেই যুদ্ধ। জীবন মানেই সংগ্রাম, জীবন মানেই শত দুঃখ কষ্ট নিয়ে নারীর টিকে টিকে থাকার অধ্যায়। জাহেলিয়াত যুগের মত এ যুগে নারীরা বোঝা ও অভিশাপ।
আমার বাবার পরিবারে আমরা ১২ ভাইবোন এর মধ্যে আমি ছিলাম সবার বড় মা-বাবা নিয়ে আমাদের সুখের একটি পরিবার ছিল। বড় বোন হিসেবে ভাই বোনের সেবা যত্ন করা বড় সন্তান হিসেবে সংসারের কাজ কর্ম করা নিজের লেখাপড়া করা। বাবার কাজ ছিল না চোখে কম দেখতেন, সংসারের অভাব অনটন, আমি নিজে টিউশনি কাঁথা সেলাই করতাম।
হঠাৎ মা-বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেন। এদিকে মা-বাবা মিলে মায়ের ভাইয়ের কথায় লোভে পড়ে এক বড়লোক ছেলের প্রস্তাবে রাজি হলেন। আমার আশা ছিল অনেক বড় হবো। টাকার অভাবে কিছু আর হলো না আমি একটি ছেলেকে ভালোবাসতাম অনেক মেধাবী ছিল যোগাযোগ করার সময়টুকই পাইনি।
এভাবেই চলতে চলতে এক বড় লোক বন্ধবীর সাথে পরিচয় হল তাদের সাথে ছাত্রী সংস্থায় পাঠাগার সম্পাদিকা হিসেবে যোগদান করলাম। জামাতে তারাবি নামাজ পড়তাম। হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি আসল ছোট্ট একটি চিঠি লিখে বান্ধবীর হাতে দিলাম। বললাম, এটা পরে ভালোভাবে পড়ো। চিঠিতে লিখা ছিল, তোমাদের বাড়তি কাপড় থাকলে দিও আমার ছোট ভাইবোনরা গায়ের দেবে। বাবার সংসারের জন্য এত কিছু করেও তারা আমাকে লোভে পড়ে ইন্টার পরীক্ষা দেওয়া মেয়েটাকে রেজাল্ট জানার আগেই বিয়ে দিয়ে দিতে চান। সদস্য কমার জন্য। মেয়েটি কোন উপায় না পেয়ে শুধু প্রভুকে নামাজে বলত তাহাজ্জুদ নামাজে।
বিয়ে হয়ে গেল। অভাবী পরিবারের জন্য স্বামীকে বলে অনেক লজ্জায় ছোট হয়ে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। ভাইদের কেন বিদেশ নেয়া হলো না। সেই কারণেই মেয়েকে পর ভাবা শুরু করে দিলেন। মনে হয় যেন মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছেন। স্বামীর একটি সন্তান ছিল। মেয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েও বেঁচে ফিরে আসেন।
কয়েক বছর পর স্বামীর মেয়ের বিয়ে হয়। তারপর থেকেই শুরু হলো স্বামীর আঁকাবাঁকা কথার জ্বালা। এটাই নারীর জীবন। নারীর আবার পরিবার সংসার আছে কিনা আমি জানি না। নারী কোথায় শান্তি পাবে বলতে পারেন কেউ। আর এখন নিজের সন্তানদের সেবা করা, দেখাশোনা করে নিজের যত্ন করার সময় পাওয়া তো অনেক দূরে। সব কিছুর কারণ বড় পরিবার হওয়ার জন্য। একটা মেয়ের জীবন ধ্বংস করা হয়েছে। পরের কারণ একটি মেয়েকে বরের পরিবার না দেখে শুনেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়েছে। যাকে বলে মেয়েটিকে সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই আমি অবশেষে বলতে চাই সবাইকে পরিবার ছোট রাখবেন। বরের পরিবার দেখে শুনেই বিয়ে দিবেন। মেয়ের স্বপ পূরণ করবেন। মেয়েদের সম্মান করবেন। ভালোবাসবেন। তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। ধন্যবাদ।

