ফাতিমা,
আমি যেনো কেমন দুঃখআহত—
এই জন্মের শাপলা ফুলের মত কোনো সকাল আসেনি,
রাতের বিনিময় নষ্টদের দানবমুঠোতে,
অধিকার কাটিয়ে আমাকে করিয়েছিলে আত্মহত্যা।
তুমি কী আমায় এমন শরীরে ডেকে নিয়েছিলে?
তোমার ঠোঁটচুমু এই জন্মে আমাকে আরো বড়ো হতে দেইনি
হতাশ সম্ভাবনায় নিজেকে আঁকিয়ে নিলে এ কেমন আগামী
ভেতরের আশপাশ মৃত মাছের আয়ু নিয়ে আশ্চর্য নদীফুল।
তুমি আমাকে মানুষ আঁকার কৌশল শিখিয়ে নিভিয়ে গেলে
অন্য মানুষের ভেতর,
যেই যৌবন শাপলা ফুলের দহন নিয়ে ফুটে উঠেছিল স্পন্দনমুখর, কর্মঠ
তাকেই তুমি বলে দিলে কাফের?
ফাতিমা,
তুমি সেই ফুলের মতো বিষাক্ত, যেই ফুলের মতোই নিষিদ্ধ গন্ধম
তোমার শরীরস্পর্শ শরীর বিশ্বাসের যোগ্যতা হারিয়ে দহনের কালেমায়
তুমি যাকে বলে দিয়েছিলে-কাফের।
তারপর তোমাকেই ভালোবাসি, ভালোবেসেছি।
ফাতিমা,
নদীফুলে ভেসে থাকা নৌকাগুলো আমাকে কাফের বলেই ডাকে,
এখন আমি বাতাসের সাথে কথা বলি
কথা বলি— আগুনের সাথে।
যে বিশ্বাস জন্মে ছিলো একান্ত ব্যক্তিনির্ভর মানুষের চশমায়
যে বিশ্বাস জন্মে ছিলো একান্ত ব্যক্তিনির্ভর মানুষের আন্দোলনে
যে বিশ্বাস জন্মে ছিলো একান্ত ব্যক্তিনির্ভর মানুষের সোগানে সোগানে
সবকিছুই হারিয়ে লুকিয়ে কাটে দহনের দিন
আমি মানুষের আড়ালে এক অন্যরকম মানুষ—
যদি পালিয়ে মরি, মানুষের চিঠিতে লিখে দিয়ো—অমানুষ!
এই কাফেরের সুমহান চোখে, ঠোঁটে, হাসিতে, হাতে, আঙুলে গেঁথে থাকা তুমি বিষফুল।
দেখো, আগামী জন্মে তোমাকেই পাব
এই জন্মের পাপ কাটিয়ে।

