৬ জুন ১৯৯৮। দৈনিক মানব জমিন পত্রিকায় আসুন বন্ধুত্ব করি বিভাগটি চোখে পড়ল। ফরম পূরণ করে পাঠালাম। ২১ জুন একটি চিঠি পেলাম। এক মেয়ে চিঠি দিয়েছে।
বন্ধুর স্টুডিওতে গিয়ে পড়লাম। মনের ভেতর কেমন জানি অনুভূতি লাগছে। কারণ এটাই কোন মেয়ের কাছ থেকে পাওয়া প্রথম চিঠি ।
লেখা ছিল প্রিয়, কেমন আছো? আশাকরি ভালো আছো। আমি ইশরাত ঢাকা থেকে। মানব জমিন পত্রিকায় তোমার ছবি দেখে চিঠি দিলাম। অনেকের মধ্যে কাকে চিঠি দিব তা ভেবে পাছি না। বান্ধবীদের নিয়ে পরামর্শ করলাম। তারা তোমাকে পছন্দ করেছে। কারণ তোমার চোখ বলে দেয়, তুমি খুব মায়াবী। আমি তোমার বন্ধু হতে চাই। যদি আমাকে বন্ধু করতে চাও তাহলে চিঠি দিও।
চিঠিটা যে কতবার পড়েছি তা মনে নেই। তারপরও বারবার পড়তে মন চাইছে।
চিঠির জবাব দিলাম। সেও দিল। এভাবে প্রায় দেড়শ চিঠি আদান-প্রদান হলো। ঈদ শুভেছা, ভিউকার্ড, ছবি, বই উপহার দেয়া-নেয়া হলো। তারপর বন্ধুত্ব থেকে শুরু হলো প্রেম।
এরপর দেখা করার ইছা হলো, তাই চিন্তা করি কিভাবে দেখা করা যায়। তার এলাকায় চাকরি নিলাম। তার বাসার আশপাশে ঘোরাঘুরি করি, তাকে দেখার জন্য। একদিন দালানের ছাদে একটি মেয়ে হাঁটাহাঁটি করছে। দূর থেকে অনুমান করে নিলাম এটাই ইশরাত। তার দিকে তাকাই আবার লুকাই। কয়েকদিন এই লুকোচুরি চলছিল।
পরে চিঠিতে লিখেছিলাম, তোমার বাসার পাশে নারকেল ও মেহেদি গাছ আছে।
তুমি জানলা কি করে? এসেছিলে নাকি? দেখা করলে না কেন?
পরের চিঠিগুলো এরকম, আরে তোমার ভাই শ্যামলতো এলাকার মাস্তান সোহেলের লোক। যদি কিছু করে ফেলে? তাই দেখা করিনি।
আরে না, সে যতই বড় মাস্তানই হোক, আমাকে ভয় পায়। বরং আমিই তাকে শাসন করি।
অ। তুমি কি গান জানো। শুনতে ইছে করছে।
তাই নকি। একবার গান শুরু করব, তখন বলতে পারবা না গান বন্ধ করো।
মানে কি? আমি কিছু বুঝতে পারছি না।
আহারে! কচি খোকা কিছু বুঝে না, প্রেমতো ভালোই বুঝো। যখন বিয়ে করলে সংসার হবে, তখনতো বাজার করতে হবে, শপিং করতে হবে, সন্তানকে স্কুলে আনা নেওয়া, বেড়াতে নিয়ে যাওয়া আরো কত কি? তখনতো বলবা এইবার গান বন্ধ করো।
হা: হা: হা:। বা! তুমি এতো কিছু জানো? তোমার মতো সুন্দরী ও সুন্দর মনের মানুষ পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। পাবো কিনা জানি না, তবে যতটুকু সম্পর্ক হয়েছে তাতে বুঝলাম তোমাকে পেলে জীবন ধন্য হবে।
ছি! এমন করে বলো না। আমিতো তোমার হতে চাই। যে আমায় অনেক ভালোবাসবে, আদর করবে। আমি অন্তর থেকেই তোমায় চাই।
একদিন দেখা করতে গেলাম। তার ছবি ও চিঠি নিলাম। যদি অস্বীকার করে, তখন কাজে দিবে।
খোঁজ নিলাম এলাকার মাস্তান সোহেলকে পেলাম। কিভাবে কথাটা বলবো ভাবছি। সাহস করে বললাম।
সে শ্যামলকে খবর দিলো, শ্যামল আসলো। সোহেল বল্ল এটা আমার ছোট ভাই। তোমার বোন ইশরাতের সাথে একটু দেখা করায় দিও। যাওয়ার সময় পৌঁছে দিও। শ্যামল বাসায় নিয়ে গেলো। আমাকে পরিচয় করে দিল।
ইশরাত তো অবাক! আমার সাহসের প্রশংসা করলো। প্রেমে পরলে বোকারাও যে চালাক হয় সেদিনই বুঝলাম। প্রথম দেখা, তাই লজ্জা বোধ দুজনেরই। শ্যামলের কথায় ঘুরতে গেলাম। মুখে সাহস দেখালেও ভিতরে ভয়ে মরি। ঘুরলাম, মজাও করলাম। সন্ধ্যায় ফিরে এলাম। প্রেম আরো গভীর হতে গভীরে হলো।
ইশরাত বাবা-মায়ের অনুরোধে ব্যাবসায়ী ছেলেকে বিয়ে করে। আর আমার প্রথম প্রেমের মৃত্যু হয় সেদিনই। আজও ইশরাত আছে আমিও আছি। কিন্তু কেউ কারো নেই।

