ছেলে : আই লাভ ইউ।
মেয়ে : কত টাকা রোজগার করো…?
ছেলে : একটু অবাক হয়ে এ কেমন কথা প্রেম করতে গেলে টাকা লাগে নাকি?
মেয়ে : টাকা ছাড়া পৃথিবীতে কোন মূল্য নেই যার যত বেশি টাকা তার ভালোবাসা তত খাঁটি
ছেলে : আছা টাকা দিয়ে কি সুখ কেনা যায়?
মেয়ে : আছা টাকা ছাড়া সুখের সংসার গড়া যায়?
ছেলে : ভালোবাসা থাকলে জীবনে সুখগুলো ঠিক আসবে!
মেয়ে : সংসারে অভাব আসলে ভালোবাসা ঠিক হারিয়ে যায়!
ছেলে : আমি তো এখুনি তোমাকে বিয়ে করছি না তাই সংসার হতে দেরি আছে ?
মেয়ে : তোমার সাথে প্রেম করলেই যে তুমি প্রতিষ্ঠিত হবে তার তো কোন নিশ্চয়তা নেই?
ছেলে : হয়তো নেই কিন্তু… বিশ্বাস তো রাখতে পারে!
মেয়ে : তোমার নিজের ওপরে বিশ্বাস আছে!
ছেলে : হ্যাঁ আছে
মেয়ে : আমাকে যে ভালোবাসো বলছো আমার ওপর বিশ্বাস আছে!
ছেলে : হ্যাঁ আছে
মেয়ে : তাহলে ৩ বছর সময় দিলাম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে দেখাও। এই সময়ের মধ্যে তুমি আমার কোন খবর পাবে না তবে আমি তোমার অপেক্ষা করবে তোমার প্রেমটা সত্যি বলে মেনে নিবে রাজি আছো!
ছেলে : তোমার সাথে মাঝে মাঝে ফোনে কথা বলা যাবে না?
মেয়ে : না যাবে না… রাজি আছো কি বলে
ছেলে : ঠিক আছে, এটাই যদি আমার ভালোবাসা পাওয়ার একমাত্র পথ হয়ে থাকে তাহলে আমি রাজি আছি
মেয়ে : ভালো থেকো
ছেলে : অপেক্ষায় থেকো
এইভাবে তিনটি বছর কেটে গেল সিনেমার গল্পের মতোই ছেলেটির ভাগ্য তার সঙ্গ দিলে সে জীবনে প্রতিষ্ঠিতে হয়ে বাড়ি ফিরেই মেয়েটির খুঁজে তাঁর বাড়ি গেলে… মেয়েটির বাবা দরজা খুলে তাকে বললো, ‘আমি জানতাম তুমি আসবে বাবা।’ ছেলেটা কিছুটা হতবাক হয়ে তার প্রেমিকার খোঁজ করলে মেয়েটির বাবা তাকে বাগানের এক পাশে এক সমাধিতে দাঁড় করিয়ে তার হাতে একটা চিঠি দিলে আর বলল… তোমার ভালোবাসা এখনো ঘুমাছে। সে যে চিরতরে ঘুমিয়ে গিয়েছে কথাগুলো শুনে মাত্রই ছেলেটি মাটিতে পড়ে গেলে আর চিৎকার করে কান্না শুরু করল।
কিছুক্ষণ পর সেই মেয়েটির লেখা চিঠিটা খুলে দেখলে তাতে লেখা ছিলো…
‘আমি জানি এখন তুমি আমার শর্ত জিতে গিয়েছো। আর আমি জীবনের কাছে হেরে গিয়েছি। আমার বাবা তোমাকে আমার লেখা শেষ চিঠিটা তোমার হাতে দিয়েছে আর তুমি আমার সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছ। আমি জানি তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো! তবু তোমার প্রতি আমার অনুভূতিগুলো আমি কোন দিন তোমাকে বুঝতে দেইনি কারণ আমি জানতাম এই ক্যান্সারের মতো মরণ রোগ আমাকে তোমার হতে দেবে না।আর তোমার জীবনের সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সময়টা আমি নষ্ট করতে চাইনি কারণ তোমাকে তোমার পরিবারের প্রয়োজন। জীবনের প্রয়োজনে অনেক এগিয়ে যেতে হবে। তাই তোমার সাথে একটু অভিনয় করে তোমাকে আমার জীবন থেকে দূর করেছি। আসলে আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি। চাইলেও কোনদিন তোমাকে বলতে পারিনি। কি বা করতাম বলো সবার কপালে যে সুখ থাকে না। এখনো কাঁদছো? আমার কিন্তু আরও কষ্ট হছে। তোমাকে এভাবে কাঁদতে দেখতে পারছি না।পারলে আমাকে ক্ষমা করো। আমি কিন্তু নিজের কথা রেখেছি। দেখো, এই মাটিতে শুয়ে তোমার জন্য আজও অপেক্ষায় রয়েছি।’

