Close Menu
সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    Facebook X (Twitter) Instagram
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    • প্রবন্ধ
    • উপন্যাস
    • গল্প
    • কবিতা ও ছড়া
    • সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিচারণ
    • বই
    • প্রিন্ট ভার্সন
    0 Shopping Cart
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    0 Shopping Cart
    Home » একটি পেয়ারা গাছের কথা : পবিত্র সরকার

    একটি পেয়ারা গাছের কথা : পবিত্র সরকার

    0
    By সূর্যাক্ষর অ্যাডমিন on May 31, 2024 গল্প
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    বিশ্বাস বাড়ির পতিত ভিটার একধারে যে স্থানটিতে সাধারণত লোকের গমনাগমন চলেনা সেখানে সকলের নজর এড়িয়ে বাড়তে থাকে এক পেয়ারা গাছের চারা। নিতান্ত অযতনে বাড়তে থাকে চারাটা। তার মাথার উপর বৃহৎ বৃক্ষের ডালপালা ছাতার মতো ছাউনি দিয়ে আছে যা হতে শুকনো পাতার বৃষ্টি তাকে ঢেকে রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জল, সূর্যালোক ধরিত্রীতে অপ্রতুল হলেও তার জন্য বিন্দুমাত্র প্রদানেও প্রকৃতির কৃপণতার কমতি নেই।এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও স্বীয় মনোবল এবং আত্মবলের ফলস্বরূপ সকলের দৃষ্টির অগোচরে সে বেড়ে উঠতে লাগলো। তার এই নিঃসঙ্গতায় নিজেই নিজের সঙ্গী এবং এই একাকীত্ব তাকে এক অন্য রকম সুখ প্রদান করে।

    কিন্তু যেহেতু স্রষ্টার সৃষ্টিতে কোন কিছুর বা কোন কারো জন্য সুখ নিরবছিন্ন নয়। তদ্রুপ তার এই একাকিত্বের সুখ আর অধিককাল স্থায়ী হলো না। তার শাখা প্রশাখায় শোভা বৃদ্ধি করে ফুলের সমারোহ দেখা দিল যা তার অজ্ঞাতবাসের যবনিকা পতন ঘটালো। এই ফুলই তার কাল হলো যেমন হরিণের মাংসই হরিণের চিরশত্রু।

    একে একে বাড়ির প্রত্যেকে পেয়ারা গাছটির অবস্থান সম্পর্কে অবগত হলো। অনতিবিলম্বে গাছটি ফলবান হবে অর্থাৎ শুরু হলো দখলদারিত্ব। কোন ভাইয়ের পরিবার কোন অংশের ফল গ্রহণ করবে তা ফল ধারণ করার পূর্বেই নির্ধারিত হলো। একেক জন একেক বর্ণের কাপড় বেঁধে অধিকার নিশ্চিত করে গেল। ক্রমেই এই বিরানভূমি জনগণের অতিশয় গমনাগমনে ব্যস্ত স্থানে পরিণত হলো।

    লোকের আনাগোনায় আধিক্য থাকলেও বৃক্ষটির ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ল না। সে ক্রমেই অনুধাবন করতে সক্ষম হলো যে, ভ্রমর মধুর লোভেই আসে বৃক্ষের প্রেমে নয়!

    যাইহোক যথারীতি সে ফলবান হয়ে উঠলো। কিন্তু জন্মাবধি অযত্নে অবহেলায় এবং অপুষ্টিতে বেড়ে ওঠা গাছটি অধিক ফল ধারণ করতে পারল না। মনুষ্য সন্তান যেমন পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভুগে সুঠাম দেহের অধিকারী হতে পারেনা তদ্রূপ বৃক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কেননা এত প্রমাণিত সত্য যে বৃক্ষেরও প্রাণ আছে। অধিক ফল ধারণ না করায় প্রত্যেকেই কিঞ্চিৎ অখুশি তথাপি ভাগের ব্যাপারে কেউ কোন রূপ ছাড় দিল না। অধিক না হলেও সুখের বিষয় এই যে তা বারোমাস ফল দিতে থাকলো। এই ফল অনেক পরিবারের অবলম্বন হয়ে উঠলো। কেউ তা বিক্রি করে সংসার চালায় কেউবা উদয়-পূর্তির মাধ্যমে ক্ষুধা নিবারণে প্রয়াসী হয় আবার কেউ কেউ তো শুধু শখের বসে ফল গ্রহণ করে থাকে।

    কিন্তু কেউই একটি বারের জন্য গাছটির কিঞ্চিত পরিমাণও যত্ন নিল না। একে তো জন্মাবধি অনাদর তার ওপর এতদিনের ফল আহরণ জনিত অত্যাচারে ধীরে ধীরে তার জীবনের অন্তিম ক্ষণ এক প্রকার অনিবার্য হয়ে উঠলো। ফলশ্রুতিতে লোকজনের আসা-যাওয়া ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকল। ক্রমশ সে পূর্বের ন্যায় একা হয়ে পড়লো। একদিন তার জীবনাবসান ঘটলো কিন্তু তা সবার অজানাই রয়ে গেল। না কেউ ছিল সেখানে তার জন্য হা-হুতাশ করতে আর না কেউ দু’ফোটা চোখের জল ফেলল।

    অনেকদিন পর বিশ্বাস বাড়িতে বড় ধরনের একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন হল। সেখানে প্রচুর লোকের সমাগম হলো। ততদিনে তারা গাছটার কথা সবাই ভুলেই গেছে। এই আগত অতিথিদের জন্য বৃহদাকারে রান্নাবান্নার প্রয়োজন পড়লো আর তার জন্য প্রয়োজন হল অধিক শুকনো কাঠের। আর সেই শুকনো কাঠ খুঁজতে গিয়েই চোখে পড়লো সেই মৃত পেয়ারা গাছটা। শুকিয়ে গিয়েছে। এবং অন্বেষণকারী এটাকে উপযুক্ত জ্বালানি হিসাবে স্বীকৃতি দিল এবং তা নিয়ে এসে ফাল করে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হলো। সামান্যতম শোক অনুভব হলো না কারো। এক সময় যে ছিল অনেকের টিকে থাকার অবলম্বন তার মৃত্যুতেও কোন ব্যক্তি এতটুকু দুঃখও অনুভব করলো না।

    Previous Articleফেরা : মাহমুদ শরীফ
    Next Article নীল শার্ট : এহছানুল মালিকী

    এ বিষয়ে আরও লেখা

    স্যাংশন : অহেদুজ্জামান

    নীল শার্ট : এহছানুল মালিকী

    ফেরা : মাহমুদ শরীফ

    এক টুকরো কাগজ ও দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি : সৈয়দ জুনায়েদ

    একদা পাত্রীর বাবা বেবিট্যাক্সির মালিক ছিল : রফিকুল ইসলাম সাগর

    অসমাপ্ত প্রেম চিঠি : মো. ইমরান খান

    যে গল্প কবিতার মতো বেদনার : শফিক মুন্সি

    নির্জন দ্বীপে কিশোর দল : সাগর আহমেদ

    জীবনের কিছু কথা : ইসরাত রুবাইয়া

    শরীরীয় প্রেতাত্মার কথকতা : কুসুম আক্তার নেকিজা

    কেউ কারো নেই : শহিদুল ইসলাম খোকন

    নবনী : ফরিদা আখতার মায়া

    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    বেওয়ারিশ সম্পর্ক : বিপ্লব হোসেন

    সোনা মোড়ানো নুড়ি পাথর : মুসলেহা সুলতানা

    অভিমানী আমি : নাজমুন নাহার লাডলী

    অনুরক্তি : মো. জয়নুল ইসলাম

    তোমাকে পাওয়ার জন্য হে সফলতা : প্রহ্লাদ কুমার প্রভাস

    দান : আফছানা খানম অথৈ

    রোজা : রুমানা আক্তার রত্না

    মানুষ : নিহাদ হোসাইন

    ভাঙা চুড়ি : নয়ন আলী নাঈম

    স্মৃতির সারথি : ইয়াছিন আরাফাত

    আমাদের সম্পর্কে

    সূর্যাক্ষর বাংলাদেশের একটি উদিয়মান প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার বই প্রকাশের পাশাপাশি আমরা লিটলম্যাগ প্রকাশ করি। লিটলম্যাগের ক্ষেত্রে আমাদের দুটি মাধ্যম আছে। একটি অনলাইন পোর্টাল, আরেকটি ছাপা ম্যাগাজিন।

    যোগাযোগ
    • ঠিকানা: ৭৯/২/বি, ৯ নং লেন, কদমতলা, বাসাবো, ঢাকা-১২১৪
    • মোবাইল: ০১৭৩৭৭২৪০৬৯, ০১৭৮২৩৭৯৮৩৭
    • ইমেইল: ‍surjakkhor@gmail.com
    • ফেইসবুক গ্রুপ: www.facebook.com/groups/surjakkhor
    লেখা আহ্বান

    প্রবন্ধ, ছড়া-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সাহিত্য সমালোচনা, অনুবাদ, ভ্রমণকাহিনি, চলমান ইস্যু নিয়ে আলোচনাসহ যেকোনো ধরনের লেখা পাঠানো যাবে। প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের একেকটা পর্ব কমপক্ষে এক হাজার শব্দের হতে হবে। কবিতায় শব্দ সংখ্যার সীমা নেই। তবে কমপক্ষে ১০/১২ লাইনের হলে ভালো হয়, ছোট হলে ছাপানো হবে না, এমনটা নয়। বড় হলেও চলবে। ই-মেইল: surjakkhor@gmail.com

    কপিরাইট সূর্যাক্ষর প্রকাশনী | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.