এ ভূবনে মনুষ্যকুল যে,
শ্রেষ্ঠ কুল রে ভাই
সকল জীবের শ্রেষ্ঠ মানুষ
মোরা জানি যে সবাই।
কিন্তু এ মনুষ্য কুলের শ্রেষ্ঠত্ব
তখনি প্রকাশ পায়,
শ্রেষ্ঠত্বের সাবলীল গুণ যখন
তাহাদের মধ্যিখানে পাওয়া যায়।
মনুষ্য এ জনম লইয়া,
শ্রেষ্ঠত্বের কি প্রমাণ দিলাম ভাই,
লোভ, মোহ, মদ, মাৎসহ্য ধারণ করিয়া
পশুত্বের পন্থায় গমন করিয়া যে যাই।
এ কেমন মনুষ্যত্ব!
যে মনুষ্যত্ব আপন ভ্রাতা, আপন ভ্রাতার
জীবন কারিয়া লয়,
মনুষ্যত্ব তাহাদের মধ্যে থাকে না
সর্বদাই পশুত্বের গুণ রয়।
এ কেমন মনুষ্যত্ব!
যে পিতা-মাতার স্নেহ ভালোবাসায়
ধন্য হইলো জীবন মোদের,
মনুষ্যত্বের গুণ বিসর্জন দিয়া
পশুত্বের গুণ সাথে লইয়া।
নিজো গৃহে স্থান দিতেছি না তাহাদের।
অথচ তাহাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে
পেয়েছো তুমি প্রতিষ্ঠা,
শ্রেষ্ঠত্ব পেয়ে রে মানুষ
সেই দেবতুল্য পিতা-মাতার প্রতি
কদাচিৎ করিতেছো না ভক্তি আর নিষ্ঠা।
এ কেমন মনুষ্যত্ব!
যে মনুষ্যত্ব হিংস্রতার রূপ নিয়া
কত মা বোনের সম্মান কারিয়া লয়,
ধিক্কার জানাই এ হেন মনুষ্যত্বকে
যে মনুষ্যত্বে হিংস্র পশুর গুণ রয়।
তাই ওহে শ্রেষ্ঠ জীব,
ওহে মনুষ্যকুল,
শ্রেষ্ঠত্বের গুণ বিসর্জন দিয়া
পশুত্বের গুণ ধারণ করিয়া,
কইরো না গো ভুল।
তব না হইলে ইহজগত তথা পরজগতে
দিতে হইবে এ ভুলেরও মাশুল।

