বাংলাদেশের নদীগুলোর চমৎকার সব নাম
নামের কারুকাজের ধারায় বইছে অবিরাম।
পদ্মা-মেঘনা-যমুনাটাই দেশের বড় নদী
সাতমোহনা, আড়িয়ালখাঁ বইছে নীরবধি।
ইছামতি নদীর বুকে চলছে এখন খরা
ফারাক্কার-ঐ নিষ্ঠুরতায় নদ-নদী সব মরা!
কান্দে আমার তিস্তা নদী,কান্দে ব্রক্ষ্মপুত্র
আন্তর্জাতিক নদী আইনে মানছে না কেউ সূত্র!
মাঠ চৌচির, ঘাঁট চৌচির, ধানের জমি ফাটা
তিস্তা ব্যারেজ কেড়ে নিছে নদীর জোয়ার-ভাটা।
সন্ধ্যা-মহানন্দা নদী মরতে শুরু করছে
নদীর বুকে চর দখলে কেউবা বসত গড়ছে।
বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যার জল
এক সময়ে ছিল আহা কলকলে ছল-ছল।
তুরাগ-কুসাই-কালিগঙ্গা কিংবা নাফের সাজ
ধানসিঁড়ি ও পায়রা নদী দিশা হারায় আজ।
গোমতি এবং মধুমতি মরছে তিলে-তিলে
ঠকবাজেরা নদীগুলো খাছে গিলে-গিলে!
সুরমা-আত্রাই-কর্ণফুলীর নেই যেন হাঁকডাক
কীর্তিনাশা করতোয়া সাঙ্গু হয় নির্বাক!
রূপসা- ডাকাতিয়ার মাঝি কাঁদছে নদীর পারে
সাঁতরে ফেরা মায়া নদী কান্দে জারে জারে।
কীর্তনখোলা- নবগঙ্গা- কপোতাক্ষ- গড়াই
ওদের নিয়ে এদেশবাসীর ছিল কত বড়াই।
আভাতিয়া সুচিত্রাও সঙ্খ-ভৈরবীতে
আন্দারমানিক পানগুচি বয়, ঢেউয়ের বিপরীতে।
তিতাস-মাতামুহুরী ও অগ্নিমুখোর বাণে
নাচতো দুলে কুশিয়ারা হঠাৎ ঝড় তুফানে!
বিষখালী ও বলেশ্বরে ইলিশ ধরার মাঝে
জোয়ার ভাটার রূপটা দেখি এক অপরূপ সাজে।
এই নদীরাই মৎস্য নদী সম্পদে ভরপুর…
এই নদীরা বিলীন হলে মুছবে প্রাণের সুর।
প্রযুক্তিতে গভীরতায় চাই যে খনন নদী
মাছে ভরা নদীর দেখা চাই সবে অবধি।
ময়লা আবর্জনা ফেলা নদীতে নয় আর
দেশ-জনতা সবার কাছে বলছিরে বারবার।
নদী বাঁচলে দেশ বাচবে, বাঁচবে জনগণ
নদী রক্ষার আন্দোলনে দাও সবে আজ মন।
নইলে সোনার বাংলা হবে মরুভূমির দেশ
নদীমাতৃক বাংলাদেশের সুুখ হবে নিঃশেষ।
আর্তনাদে কাঁদছে মাঝি, কাঁদছে জেলে গঙ্গায়
পানিবিহীন হয়েই এদেশ পড়বে মহা-মঙ্গায়।
বাংলাদেশের নদী নিয়ে আছে অনেক গান
নদীর সাথে মিশে আছে জন্মভূমির প্রাণ।

