রাত পোহালেই তোমার বাগান
সাজানোর দিন। আলতারাঙা
পায়ে হেঁটে হেঁটে। মেহেদিরাঙা
হাতে স্পর্শ করবে তোমার
বাগানের প্রিয় ফুলটি।
আজ তোমার বাগানে একটি
ফুল ফুটবে। কী নাম দেবে তার।
চন্দ্রচূড়া। এ ফুলই তো
আরাধ্য ছিল তোমার।
বৃক্ষপর্ণ আর কুয়াশা বিন্দুর
সঙ্গমকালের সময়টুকুর
মতই ছোট্ট একটুখানি জীবনে
এমনি করেই মানুষকে নীরবে
জীবনকে জিঁইয়ে রাখা শিখতে হয়।
প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে
এ ভুল করেনি পাহাড়ের
গুহার গোষ্ঠীবদ্ধ স্বজনরা।
যা কিছু সৃষ্টি তা তো মানুষেরই।
আজ প্রয়োজনে তুমিও ধরিত্রীর
বেঁধে দেয়া নিয়মের সারথী।
জানি তুমি আর কখনো চিনে
নেবে না আমায়।
আমিও বিশ্বালোকে স্মৃতি
কুড়িয়ে ফিরব যোজনকাল।
তোমার পথে আজ লুটোপুটি
জোছনালোক। আর বিমূর্ত
আঁধারে ঢাকা আমার স্বপ্নপথ।
এ তোমার শেষ দান।
বিবর্তন, সভ্যতা আর মহাকালের
নিয়মে একদিন মুছে যাবে
তোমাকে নিয়ে লেখা
আমার বিরহের কাব্যগাঁথা।
কবি আমি। এ বিশ্বলোক আমার।
কবিরা চিরকাল খুঁজেফেরে তার
হারিয়ে যাওয়া আগুনফুল।

