আমি হারিয়ে ফেলেছি ফুল পাখি
নদী। দুধসাদা জ্যেৎস্নার
মাতাল আলো। বৃষ্টির ফোঁটার
রাগিণী সুরছন্দ। সর্বহারা
আমি ছটফটিয়ে আর্তনাদ
করি শিকারীর তীরবিদ্ধ
পাখির মতোন। আমি দিনরাত
খুঁজি আমার ‘মানবিকা’কে।
গুরুদেব, আমার একটি মৃত্যু হবে
শ্রাবণ বাদরের দুধসাদা
জ্যোৎস্না রাতে।
জয়দেবের বৈষ্ণবপদাবলী আমার
অন্তরমমে এক যমুনা প্রেম
ঢেলে দিয়েছিল। আমি তখন সুর
ভেঁজেছি কদমতলায়
মোহনবাঁশিতে। আমি কৃষ্ণ তখন
আমার ‘মানবিকা’রাধা।
কী গভীর আবেগটান। প্রেমপিয়াসী
অন্তরমম হারিয়েছিল আদি
জন্মান্তরে। আমি বিবর্তনকালের
পূর্বপুরুষ। আর আমার
‘ মানবিকা’পুর্বনারী। জলতরঙ্গ।
গুরুদেব, আমি খুব কষ্টে আছি।
আমার একটি মৃত্যু হবে শ্রাবণ
বাদরের দুধসাদা জ্যোৎস্না রাতে।
সে এক দিন ছিল বটে, চা কিংবা কফি।
কখনো গোলাম আমি, কখনো
আমর আলি খানের গজল।
তোমার গীতাঞ্জলি, গীতবিতান নয়তো
পুনশ্চ কিংবা বলাকা হাতে
‘মানবিকা’। তুমুল আড্ডায় খৈ
ফুটতো তার মুখে।
আমার ‘মানবিকা’ আজ নেই। মুঠো
মুঠো সুখ সঞ্চয়ে ব্যস্ত যামিনী।
গুরুদেব, তুমি তো জানো, বন পুড়লে
সবাই দেখে কিন্তু মন পোড়াটা
কেউ দেখে না। নিদ্রায়ও আমি
চিৎকার করে কেঁদে উঠি।
আমার বুকের ভেতর রোজ গরম
হাওয়া ঘোরে। ইচ্ছে ছিল
‘মানবিকা’ আর আমি কোনো এক
বৃষ্টিঝরা দিনে একটি
মাধবীলতার গাছ লাগাব
আমাদের নন্দনকাননে।
নেই সে। হীরে আর জহরতে
মোড়ানো তার সব স্বপ্ন।
ধামাকা স্রোতের বাজারে
আজ সে সওদাগরী।
আজ দুঃখকে দিলাম ছুটি
কষ্টগুলো মুঠোভরা।
মানবিকার পূর্ণতার জয়োধ্বনি।
পরাজিত আমি হেঁটে হেঁটে
একদিন ঠিকই পৌঁছে যাব
মহাকালের আঙ্গিনায়।
গুরুদেব, আমি খুব কষ্টে আছি
আমার একটি মৃত্যু হবে শ্রাবণ
বাদরের দুধসাদা জ্যোৎস্নার রাতে।

