Close Menu
সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    Facebook X (Twitter) Instagram
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    • প্রবন্ধ
    • উপন্যাস
    • গল্প
    • কবিতা ও ছড়া
    • সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিচারণ
    • বই
    • প্রিন্ট ভার্সন
    0 Shopping Cart
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    0 Shopping Cart
    Home » একদা পাত্রীর বাবা বেবিট্যাক্সির মালিক ছিল : রফিকুল ইসলাম সাগর

    একদা পাত্রীর বাবা বেবিট্যাক্সির মালিক ছিল : রফিকুল ইসলাম সাগর

    0
    By সূর্যাক্ষর অ্যাডমিন on May 31, 2024 গল্প
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    ভাঙাগড়ার এই শহরে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে একে একে হারিয়ে যাছে পুরোনো সব স্থাপনা। পথ-ঘাট, ঘর-বাড়ি কোন কিছুই আর আগের মতো নেই। নতুন নতুন স্থাপনার ভিড়ে আজ হারিয়ে গিয়েছে আমাদের অতীত। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে যারা বিদেশে গিয়েছে এখন পাঁচ বছর পর তারা দেশে ফিরে পরিবর্তনের মাঝে নিজের এলাকাই চিনতে পারেন না। বিদেশের কথা বাদ দিলাম ঢাকা শহরে থেকেই পাঁচ বছর আগে যেই এলাকায় গিয়েছি হটাৎ এখন সেই এলাকায় গেলে অচেনা মনে হয়। এই তো সেদিন মেয়েকে নিয়ে শাহবাগের শিশু পার্কে গিয়ে দেখি শিশু পার্ক আর নেই। পরে মনে পড়ল কয়েকমাস আগে পত্রিকায় পড়েছিলাম শিশু পার্ক ভেঙে ফেলার খবর। শিশু পার্ক ভেঙে ফেলায় আমার মনে হলো, এই শহরে গরিবের আর কিছুই থাকলো না। শহরে এখন সব কিছুতেই বাণিজ্য, এখানে থাকতে হলে টাকা খরচ করতে হবে। এখানে সস্তায় বিনোদন পাওয়া যাবে না তাই শিশু পার্কটাও হারিয়ে গেল। হয়তো ভবিষ্যতে শিশু পার্ক নিয়ে ভিন্ন কোন পরিকল্পনা থাকতে পারে কর্তৃপক্ষের। তবে নতুন করে সরকারি ভাবে শিশু পার্ক যদি চালু করাও হয় সেখানে বিনোদনের জন্য খরচ করতে হবে চড়া মূল্য এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।

    কি বলব লজ্জার কথা জন্মগত ঢাকাইয়া হওয়ার পরেও কয়েকদিন আগে তেজগাঁও রেল স্টেশনের পাশে মোটরসাইকেল নিয়ে একটি রাস্তা খুঁজতে গিয়ে পথ ভুলে নিজেই হারিয়ে গিয়েছিলাম। যে রাস্তা দিয়ে নাখালপাড়া হয়ে মহাখালী আসা যেতো। পরে মানুষকে জিজ্ঞেস করে করে ফিরে এসেছি। অনেক দিন যাতায়াত না থাকায় বুঝতে পারিনি হারিয়ে ফেলা তেজগাঁওয়ের সেই রাস্তাটি এখন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে চাপা পড়ে গেছে। আশপাশের টিন শেডের বাড়ি গুলো সব বিল্ডিং হয়ে গেছে। চেনার উপায় নেই। এখন আবার দেখলাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচ দিয়ে মহাখালী-নাখালপাড়া অংশে দুই রেললাইনের দুপাশে আরও একটি করে নতুন রেললাইন স্থাপনের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।

    তবে শহরের অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও সোনারগাঁও হোটেলের সামনে সেই ‘সার্ক ফোয়ারা’ এখনো আছে। ফোয়ারার উপর দিয়ে মেট্রোরেল পথের ওভারব্রিজ গেলেও ফোয়ারা আগের জায়গাতেই আছে। এই ফোয়ারার সামনে দিয়ে যতবার যাওয়া-আসা করি ততবার আমার বাবা মায়ের সাথে ছোটবেলায় কর্নফুলী ট্রেনে করে চট্টগ্রাম ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা মনে পড়ে যায়। সেই স্মৃতি শেয়ার করার আগে এই ফোয়ারার সংক্ষিপ্ত তথ্য জেনে নেওয়া যাক। সার্ক ফোয়ারা। রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি ফোয়ারা। এটি প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলের সামনে অবস্থিত। ১৯৯৩ সালে এটি নির্মিত হয়। এটির নকশাকারী হলেন নিতুন কুণ্ডু (১৯৩৫-২০০৬)।

    সম্ভবত ১৯৯৫ সালের কথা। অনেক ছোট ছিলাম। যতদূর মনে পড়ে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে ঢাকা ফিরে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বেবি ট্যাক্সিতে করে মায়ের কোলে চেপে আমাদের বাসায় আসার সময় সোনারগাঁও মোড়ের এই সার্ক ফোয়ারা দেখে বুঝতে পারতাম আমাদের বাসার কাছে চলে এসেছি। সেই যুগে এই ফোয়ারা থেকে পানি বের হওয়ার দৃশ্য অদ্ভুত সুন্দর লাগতো। এবং অবাক হয়ে ছোট্ট মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক করতো এখানে কিভাবে? কোথা থেকে পানি ঝরে? পানি শেষ হয়না? এসব প্রশ্ন মাকে করতাম। এছাড়া ফোয়ারার চারপাশে রঙিন বাতি জ্বলতো। যা আমার ছোট্ট হৃদয়ে আকর্ষণ করতো বেশি। এখন এই ফোয়ারা দেখলেই ছোটবেলার সেই স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মনে হয় এই তো সেদিন বেবি রিক্সাতে করে বাসায় গিয়েছি। তখন অবশ্য জানতাম না এর নাম সার্ক ফোয়ারা। বলতাম ঝর্ণা।

    বড…. বড… শব্দ করে চলা সেই বেবি ট্যাক্সির কথা মনে আছে তো? এখন যেই সিএনজি অটোরিকশা তখন ছিল বেবি। সম্ভবত ডিজেলে চলতো। ঠিক মনে নেই। বেবি মাঝে মাঝে পুরোনো বাংলা সিনেমা দেখলে দেখা যায়। পরিবেশ দূষণ করে বলে ঢাকা শহরের রাস্তায় বেবি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে এলো সিএনজি অটোরিকশা। এখনো দেশের কোথাও বেবি চলাচল করে কিনা জানা নেই। ঢাকায় বেবি চলাচল নিষিদ্ধ করার পর বেশ কয়েকবছর গ্রামে গঞ্জে চলাচল করেছে। গ্রামের মহাজনেরা ঢাকা থেকে পুরোনো বেবি কিনে নিয়ে যাওয়া শুরু করে। তখন দেশের অনেক গ্রামে বেবিই ছিল ইঞ্জিল চালিত প্রথম বাহন। ঢাকায় চলাচল বন্ধ হওয়ার কারণে এমন অনেক গ্রামে বেবি চলে যায় যেসব গ্রামের মানুষের কাছে তার আগে বেবি ছিল স্বপ্নের মতো। শহরের বাহন গ্রামে যাওয়ার পর মানুষের কৌতূহলের শেষ ছিল না। একটা সময়ে এসে আস্তে আস্তে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে বেবি ট্যাক্সি এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শহর থেকে অজপাড়া গাঁয়ে এখন সেই বেবির বিকল্প ইজি বাইক ও সিএনজি অটোরিকশা।

    বেবি নিয়ে ছোট একটি গল্প শেয়ার না করলেই নয়। কয়েকমাস আগে এক বন্ধুর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম নরসিংদীর এক গ্রামে। যাওয়ার পর দেখে মনে হলো মেয়ের বাপ মোটামুটি ভালোই টাকাওয়ালা। মেয়ের বাপের কথা-বার্তায় বড়লোকীর অহংকারী একটা ভাব কাজ করে। মেয়ের বাপের অহংকার দেখে ঘটককে প্রশ্ন করলাম! উনি নতুন নতুন বড়লোক হয়েছেন? নাকি আগে থেকেই বড়লোক? তো মেয়ের বাপ যে আগে থেকেই বড়লোক সেটা বোঝানোর জন্য ঘটক আমাদের বললেন, মেয়ের বাপের নাকি ২০০৪ সালে একটা বেবি ছিল। প্রাইভেট বেবি। তিনি সব সময় নিজের বেবিতে করেই এদিক সেদিক যাতায়াত করতেন। সেই আমলের এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকায় পুরাতন বেবি কিনেছিলেন। সেই সময় ওই এলাকায় নাকি কারো প্রাইভেট বেবিও ছিল না। ঘটকের কথা শুনে জানতে চাইলাম, সেই বেবি এখন আছে?

    ঘটক বলল, মেয়ের বাপ একদিন তার প্রাইভেট বেবিতে চড়ে পাশের গ্রামে এক বিচার করতে যাছিল। ঘটকের ভাষ্য মতে চালক নেশা করে বেবি চালাছিলেন। চলতে চলতে হটাৎ পেছনের সিটে বসে থাকা মেয়ের বাবাসহ চালক বেবি নিয়ে রাস্তা ছেড়ে খাদে পড়ে গেলেন। চালক লাফ দিয়ে আগেই পড়ে যাওয়ায় তার তেমন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু মেয়ের বাবা কোমড় ভেঙে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনদিন বেবিতে উঠেন না। দুর্ঘটনার পর তার সেই বেবি মাত্র ত্রিশ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। এছাড়া এরপর থেকে তিনি কোন ড্রাইভারকে বিশ্বাস করেন না বলে গাড়ি কিনেন না। তার ভাষ্যমতে সব ড্রাইভাররা ইতর, বদমাইশ।

    Previous Articleঅসমাপ্ত প্রেম চিঠি : মো. ইমরান খান
    Next Article এক টুকরো কাগজ ও দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি : সৈয়দ জুনায়েদ

    এ বিষয়ে আরও লেখা

    স্যাংশন : অহেদুজ্জামান

    নীল শার্ট : এহছানুল মালিকী

    একটি পেয়ারা গাছের কথা : পবিত্র সরকার

    ফেরা : মাহমুদ শরীফ

    এক টুকরো কাগজ ও দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি : সৈয়দ জুনায়েদ

    অসমাপ্ত প্রেম চিঠি : মো. ইমরান খান

    যে গল্প কবিতার মতো বেদনার : শফিক মুন্সি

    নির্জন দ্বীপে কিশোর দল : সাগর আহমেদ

    জীবনের কিছু কথা : ইসরাত রুবাইয়া

    শরীরীয় প্রেতাত্মার কথকতা : কুসুম আক্তার নেকিজা

    কেউ কারো নেই : শহিদুল ইসলাম খোকন

    নবনী : ফরিদা আখতার মায়া

    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    বেওয়ারিশ সম্পর্ক : বিপ্লব হোসেন

    সোনা মোড়ানো নুড়ি পাথর : মুসলেহা সুলতানা

    অভিমানী আমি : নাজমুন নাহার লাডলী

    অনুরক্তি : মো. জয়নুল ইসলাম

    তোমাকে পাওয়ার জন্য হে সফলতা : প্রহ্লাদ কুমার প্রভাস

    দান : আফছানা খানম অথৈ

    রোজা : রুমানা আক্তার রত্না

    মানুষ : নিহাদ হোসাইন

    ভাঙা চুড়ি : নয়ন আলী নাঈম

    স্মৃতির সারথি : ইয়াছিন আরাফাত

    আমাদের সম্পর্কে

    সূর্যাক্ষর বাংলাদেশের একটি উদিয়মান প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার বই প্রকাশের পাশাপাশি আমরা লিটলম্যাগ প্রকাশ করি। লিটলম্যাগের ক্ষেত্রে আমাদের দুটি মাধ্যম আছে। একটি অনলাইন পোর্টাল, আরেকটি ছাপা ম্যাগাজিন।

    যোগাযোগ
    • ঠিকানা: ৭৯/২/বি, ৯ নং লেন, কদমতলা, বাসাবো, ঢাকা-১২১৪
    • মোবাইল: ০১৭৩৭৭২৪০৬৯, ০১৭৮২৩৭৯৮৩৭
    • ইমেইল: ‍surjakkhor@gmail.com
    • ফেইসবুক গ্রুপ: www.facebook.com/groups/surjakkhor
    লেখা আহ্বান

    প্রবন্ধ, ছড়া-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সাহিত্য সমালোচনা, অনুবাদ, ভ্রমণকাহিনি, চলমান ইস্যু নিয়ে আলোচনাসহ যেকোনো ধরনের লেখা পাঠানো যাবে। প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের একেকটা পর্ব কমপক্ষে এক হাজার শব্দের হতে হবে। কবিতায় শব্দ সংখ্যার সীমা নেই। তবে কমপক্ষে ১০/১২ লাইনের হলে ভালো হয়, ছোট হলে ছাপানো হবে না, এমনটা নয়। বড় হলেও চলবে। ই-মেইল: surjakkhor@gmail.com

    কপিরাইট সূর্যাক্ষর প্রকাশনী | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.