Close Menu
সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    Facebook X (Twitter) Instagram
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    • প্রবন্ধ
    • উপন্যাস
    • গল্প
    • কবিতা ও ছড়া
    • সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিচারণ
    • বই
    • প্রিন্ট ভার্সন
    0 Shopping Cart
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    0 Shopping Cart
    Home » ফেরা : মাহমুদ শরীফ

    ফেরা : মাহমুদ শরীফ

    0
    By সূর্যাক্ষর অ্যাডমিন on May 31, 2024 গল্প
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    রাত বারোটা কয়েক সেকেন্ড। এ্যালবা হাত ঘড়িটা তারিখ ও সময় পাল্টানোর সংকেত দিল। নতুন তারিখ ও বারকে স্বাগত জানালো সে।

    রাস্তায় জনমানব আর যানবাহনের চলাচল নেই বললেই চলে। বিভাগীয় শহরের এখনও কেউ কেউ জেগে আছে। গ্রামে অবশ্য এখন গভীর রাত। কোথাও সাড়া শব্দ পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের দক্ষিণের বিভাগীয় শহর খুলনা। চারিদিকে আলোর ঝলকানি। রাস্তায় রাস্তায় সোডিয়াম লাইট জ্বলছে। সারা দিন মহাব্যস্ততার পর একটু নিঝুমতা নেমে এসেছে শহরময়। সবাই যার যার কুঠিরে মাথা গুঁজেছে।

    আশিক চলছে তো চলছেই। আপন মনে একাগ্রচিত্তে হেঁটে চলেছে সে। কোথায় কার কাছে, কোন গন্তব্যে ছুটে চলেছে তা জানা নেই আশিকের। শুধু হাঁটছে আর হাঁটছে, বিরামহীন ভাবে।

    হঠাৎ কারো ডাকে সম্বিৎ ফিরে আসে কিশোর আশিকের।

    ‘এই ছেলে কোথায় যাচ্ছ? কী নাম তোমার?’

    আশিক দেখে মধ্য বয়সী শরীরে পুলিশের মতো পোশাক পরা জনৈক ব্যক্তি তার পাশে দাঁড়িয়ে। হাতে বাঁশি ও একটা বড়সড় লাঠি। সহজেই বোঝা যায় লোকটি এই এলাকার রাতের পাহারাদার।

    আশিক নিজের পরিচয় খুলে বলে পাহারাদার শফি মিয়ার কাছে। পাশে বসিয়ে আশিকের মাথায় হাত বুলায় শফি মিয়া। সব কথা শুনে পাহারাদার বললো, ‘তুমি বড্ড ভুল করেছো বাবা। এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করতে পারোনি, তাই বলে কী বাড়ি ছেড়ে চলে আসতে হবে? এবছর পাশ না করলেও আগামী বছর তো আছে! যদি ঠিকমতো লেখাপড়া করো তাহলে অবশ্যই আগামী বছর পাশ ধরা দেবেই দেবে। শোন! সঠিক পথে সাধনা করলে মহান আল্লাহ সেই সাধনার ফল অবশ্যই দেন।’

    আশিক শফি মিয়ার কথা শুনে হা করে চেয়ে থাকে। তাকে এভাবে কেউ কোনদিন আপন করে কাছে বসিয়ে বুঝ দেয়নি। লোকটি বলেই চলেছে।‘আমি জানি, পরীক্ষায় ফেল করা লজ্জার ব্যাপার। সবাই শুধু ধিক্কারই দেয়। সহপাঠীদের কাছে ছোট মনে হয় নিজেকে। মাথা নিচু হয়ে আসে সবখানে। তাই বলে ভেঙে পড়লে তো আর চলবে না! একবার না পারিলে দেখ শতবার।’

    আশিক মাথা নিচু করে শুনছে লোকটির কথা। নিজে কিছু বলার ভাষা যেন খুঁজে পাচ্ছে না। বাক্য ভান্ডার যেন শূন্য হয়ে গেছে ওর। পাহারাদার শফি মিয়া জানতে চাইলেন, ‘তোমার আব্বা কী করেন?’

    আশিক উত্তর দেয়,‘আব্বা বেঁচে নেই। শুধু মা আছে। আমিই মায়ের একমাত্র সন্তান।’

    লোকটি আশ্চর্য হয়ে বললো,‘সর্বনাশ! তুমি কীভাবে এমন কাজ করতে পারলে? ছিঃ ছিঃ! এমন কাজ করা তোমার মোটেও ঠিক হয়নি। তোমার হতভাগী মায়ের তুমিই একমাত্র অন্ধের যষ্টি। তোমাকে নিয়েই তোমার মায়ের হাজারো স্বপ্ন। তুমি বাড়ী ছেড়ে চলে আসার পর থেকে হয় তো তোমার মা পাগলীনি হয়ে গেছে।’

    এবার আশিক একটু প্রতিবাদের ভাষায় জবাব দেয়, ‘বুঝলাম, তাহলে কেন আমার উপর এত রাগ দেখায়? কেন বাড়ী ছেড়ে চলে যেতে বলে বার বার?’

    আশিকের কথা শেষ না হতেই পাহারাদার শফি মিয়া আবার বলে,‘শোন! তোমার মা রাগ করে চলে যেতে বললোই বা, তাই বলে রাগ দেখিয়ে তুমি বাড়ি ছাড়া হবে? শোন বাবা! সকল মা-বাবাই সন্তানের মঙ্গল কামনা করে। তাদের রাগের মধ্যেও কল্যাণ আর মঙ্গল রয়েছে। আর মায়ের মত আপন কে আছে বলো? যদি কেউ মা-বাবার থেকে বেশি ভালোবাসে তাহলে সেটা ¯া^ার্থের জন্যই হতে পারে। কিন্ত মা-বাবার ভালোবাসা আদর স্নেহ সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ। তাই বলি বাবারে! ফিরে যাও, মায়ের কাছে ফিরে যাও। নতুন করে আবার পড়ালেখা করো। তোমার মা হয় তোমার পথের দিকে চেয়ে আছে। তার কাছে যাও, দোয়া নাও গে! সে-ই তোমার পরম শান্তির পরশ। তোমার জান্নাত! তুমি দুই দিন বাড়ি ছাড়া, মনে হয় তোমার মা…’

    শফি মিয়ার কথা শেষ না হতেই আশিক নিজের ভুল বুঝতে পারে। সত্যিই তো, মা যে তার সবচেয়ে আপন! মায়ের ভালোবাসার মত নির্মল ভালোবাসা কেউ দিতে পারে না।

    আশিক পাহারাদারের কথায় আবার ফিরে পায় সাহস আর উদ্যাম। লেখাপড়া করার আগ্রহ-উদ্দীপনা। পাশাপাশি সকালেই বাড়ি ফেরার সংকল্প করে মনে মনে। গত দুই রাত খুলনা রেল স্টেশনে কেটেছে তার। খেয়েছে পথের ধারের হোটেলে। তাছাড়া পকেটও শূন্য প্রায়।

    গভীর রাত। ঘনকালো তিমির অন্ধকারে ছেয়ে আছে রসুলপুর গ্রাম। চারপাশ নিঝুম, নিস্তব্ধ। ঝিঁঝি আর নিশাচর পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে মাঝে মধ্যে। দুর থেকে খেকশিয়ালের হুক্কাহুয়া সুর শোনা গেল কয়েকবার। ডাহুক পাখির ডাকাডাকির শব্দও হচ্ছে ঝোপঝাড়ে। আশিকের মা রাহেলা বেগম ঘরের দরজা খোলা রেখে হারিকেন জ্বালিয়ে বসে আছে। কান দুটো সর্বদা সজাগ। প্রতিবেশীরা সবাই ঘুমের দেশে। মায়ের চাতকী চোখের একান্ত প্রত্যাশা-ছেলে আশিক এই আসলো বুঝি!

    আশিক লজ্জা আর শরমে দিনের বেলায় বাড়ি ফেরেনি। দুপুরের পর পরই উপজেলা শহর কুমারখালী এসেছে সে। এখন গভীর রাতে চুপি চুপি পায়ে হাজির বাড়িতে, মায়ের কাছে। পায়ের শব্দ শুনেই দুখিনী রাহেলা বেগম বলে উঠে- কিডা? কিডা ওহানে?

    ‘আমি মা! আমি…’

    ‘তুই আইছিস বাজান? আয় আয়, আমার বুকে আয়! আমি না হয় একটু রাগই করেছিলাম, পরীক্ষায় ফেল না করলে কী রাগ করতাম? আয় বা-জা-ন, আয় সোনা মানিক আয়।’

    বলেই ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বুকের সাথে। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে দুইজনেই। মা বলে, ‘আমারে ছাইড়া আর কোন দিন, কোথাও যাবি না বাপ!’

    ‘হ্যাঁ মা, আর কোন দিন তোমাকে ছেড়ে যাবো না, কোন দিন না।’

    আশিক বলতে বলতে মা রাহেলা বেগমের চোখের পানি মুছে দেয়। মাও ছেলের মুখে হাত বুলায়ে আদর করে। মা-ছেলের মিলনের দৃশ্য দেখে জোনাকিরা আলোর জ্যোতি বাড়িয়ে দেয়। ঝিঁঝিরা সুর তুলে গেয়ে ওঠে নতুন গান। আশিকের পায়রার ঘর থেকে ভেসে আসে বাকবাকুম- বাকবাকুম ডাকের সুমধুর ধ্বনি।

    Previous Articleএক টুকরো কাগজ ও দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি : সৈয়দ জুনায়েদ
    Next Article একটি পেয়ারা গাছের কথা : পবিত্র সরকার

    এ বিষয়ে আরও লেখা

    স্যাংশন : অহেদুজ্জামান

    নীল শার্ট : এহছানুল মালিকী

    একটি পেয়ারা গাছের কথা : পবিত্র সরকার

    এক টুকরো কাগজ ও দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি : সৈয়দ জুনায়েদ

    একদা পাত্রীর বাবা বেবিট্যাক্সির মালিক ছিল : রফিকুল ইসলাম সাগর

    অসমাপ্ত প্রেম চিঠি : মো. ইমরান খান

    যে গল্প কবিতার মতো বেদনার : শফিক মুন্সি

    নির্জন দ্বীপে কিশোর দল : সাগর আহমেদ

    জীবনের কিছু কথা : ইসরাত রুবাইয়া

    শরীরীয় প্রেতাত্মার কথকতা : কুসুম আক্তার নেকিজা

    কেউ কারো নেই : শহিদুল ইসলাম খোকন

    নবনী : ফরিদা আখতার মায়া

    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    বেওয়ারিশ সম্পর্ক : বিপ্লব হোসেন

    সোনা মোড়ানো নুড়ি পাথর : মুসলেহা সুলতানা

    অভিমানী আমি : নাজমুন নাহার লাডলী

    অনুরক্তি : মো. জয়নুল ইসলাম

    তোমাকে পাওয়ার জন্য হে সফলতা : প্রহ্লাদ কুমার প্রভাস

    দান : আফছানা খানম অথৈ

    রোজা : রুমানা আক্তার রত্না

    মানুষ : নিহাদ হোসাইন

    ভাঙা চুড়ি : নয়ন আলী নাঈম

    স্মৃতির সারথি : ইয়াছিন আরাফাত

    আমাদের সম্পর্কে

    সূর্যাক্ষর বাংলাদেশের একটি উদিয়মান প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার বই প্রকাশের পাশাপাশি আমরা লিটলম্যাগ প্রকাশ করি। লিটলম্যাগের ক্ষেত্রে আমাদের দুটি মাধ্যম আছে। একটি অনলাইন পোর্টাল, আরেকটি ছাপা ম্যাগাজিন।

    যোগাযোগ
    • ঠিকানা: ৭৯/২/বি, ৯ নং লেন, কদমতলা, বাসাবো, ঢাকা-১২১৪
    • মোবাইল: ০১৭৩৭৭২৪০৬৯, ০১৭৮২৩৭৯৮৩৭
    • ইমেইল: ‍surjakkhor@gmail.com
    • ফেইসবুক গ্রুপ: www.facebook.com/groups/surjakkhor
    লেখা আহ্বান

    প্রবন্ধ, ছড়া-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সাহিত্য সমালোচনা, অনুবাদ, ভ্রমণকাহিনি, চলমান ইস্যু নিয়ে আলোচনাসহ যেকোনো ধরনের লেখা পাঠানো যাবে। প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের একেকটা পর্ব কমপক্ষে এক হাজার শব্দের হতে হবে। কবিতায় শব্দ সংখ্যার সীমা নেই। তবে কমপক্ষে ১০/১২ লাইনের হলে ভালো হয়, ছোট হলে ছাপানো হবে না, এমনটা নয়। বড় হলেও চলবে। ই-মেইল: surjakkhor@gmail.com

    কপিরাইট সূর্যাক্ষর প্রকাশনী | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.