সেদিন উন্মাতাল চৈতী হাওয়ায়
বারুদের পোড়া গন্ধে গোটা জনপদ ছিল বিষাক্ত ও বিষাদময়।
হাজারো অস্ত্রনলের বর্ষণ,
জ্বালাও পোড়াও ধর্ষণ,
অসহনীয় কর্কশ গালাগাল আর বীভৎস বিদঘুটে অত্যাচার।
কোলের সন্তান ছিনিয়ে নেয় জোর করে,
ষোড়শীকে পালা করে স্বদেশী শেয়াল আর পাক-হায়নারা,
আমার বোনের আর্তচিৎকারে
বাতাস গুমরে কাঁদে!
চৈতন্য হারায় বারেবারে বিবেকী মানবতার।
বাঁচার প্রত্যয়ে অবিরাম ছুটেছিল অসহায় জনগোষ্ঠী অনিরাপদে ধেয়ে,
মেঠোপথ, নদীপথ, গিরিপথ বেয়ে।
ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত অনেকের হৃৎপিন্ড যখন অচল মুহূর্ত কফোঁটা পানির জন্যে
মরণপণ আর্তনাদে মুমূর্ষু জনতা।
বুলেটে ঝাঁঝরা প্রাণহীন দেহটা পড়েছিল দখিন বিলে,
শকুন আর কুকুরের সে-কী লড়াই প্রিয় মানুষটিকে ঘিরে!
দেবতার মতো প্রিয় স্বামীর লাশ দেখতে আসে বীরাঙ্গনা সখিনা,
ততক্ষণে অনেকটা শকুন আর কুকুরের পেটে
বাকিটা যেন ছেঁড়া কোনো নকশিকাঁথা!
কাল রাতে সদ্য বিবাহিত বাসর ঘর থেকে তুলে নিয়েছিল পাকহানাদার,
আর সখিনাকে নিয়ে অদম্য খেলায় মেতেছিল হায়েনার দল।
বিহ্বলা সখিনার শুকনো চোখ দুটো জ্বালা করে নিষ্ফল ক্রোধে।
তবুও সহস্র সোহাগের উষ্ণ উছ¡াসে,
শত আদরে হৃদয়ে ঠাঁই দিয়ে
স্বপ্ন দেখে লাখো জনতা,
নব ভূবন আর নব জীবনের।
সেই স্বপ্নের ভেলা ভর করে
অুঃপর…
স্বাধীনতা তুমি এলে শ্রাবণী বর্ষণের মতো!
হে আমার স্বাধীনতা,
তুমি কি ভুল করে এসেছিলে এই জনপদে?
কেন তোমাকে চেনে না আজকের প্রজন্ম?
কেনো তারা বোঝে না –
তুমি যে বাঙালির অহংকার।
তুমি যে স্বাধীনতা আমার গর্ব।

