Close Menu
সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    Facebook X (Twitter) Instagram
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    • প্রবন্ধ
    • উপন্যাস
    • গল্প
    • কবিতা ও ছড়া
    • সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিচারণ
    • বই
    • প্রিন্ট ভার্সন
    0 Shopping Cart
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    0 Shopping Cart
    Home » তৃষ্ণা, অতঃপর : রুমানা আখতার

    তৃষ্ণা, অতঃপর : রুমানা আখতার

    0
    By সূর্যাক্ষর অ্যাডমিন on August 21, 2023 গল্প
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    ঘুমটা হঠাৎ ক‌রে ভে‌ঙ্গে গেল প্রবল তৃষ্ণা যেন জোর ঝাঁকুনী মে‌রে ডে‌কে তুলল আমাকে। কিন্তু অত তৃষ্ণা স‌ত্ত্বেও বিছানার আলস্য ছে‌ড়ে নড়‌তে চড়‌তে মন করছে না। বেশ কিছুক্ষন এপাশ ওপাশ করলাম, ভাবলাম তৃষ্ণাটা ম‌রে গেলে ঘুমটা চ‌লে আস‌বে আবার, কিন্তু বি‌ধি বাম! তৃষ্ণাটা যে স‌ত্যি খুব জোরদার হ‌য়ে ঘা‌ড়ে থু‌ড়ি গলায়, বুকে চে‌পে বসেছে তা বিলক্ষণ টের পে‌য়ে অগত্যা উ‌ঠে বসলাম।

    মশারীর নিচ থে‌কে আ‌স্তে ধী‌রে বের হ‌য়ে ধী‌রে সু‌স্থে হেঁটে বের হলাম নি‌জের ঘর থে‌কে। বের হ‌য়ে প্রথ‌মে‌ই নজর গেল ডায়‌নিং টে‌বিলটার ওপর। অবাক করা কান্ড! ডায়‌নিং টে‌বিল আর আমার মাঝখা‌নে বিশাল একখানা স্টি‌লের গেট আসল কোনখান থে‌কে? তারওপর তা‌তে ঝুল‌ছে বিশাল একখানা তালা! হঠাৎ বুঝ‌তে পারলাম ঘু‌মের ঘো‌রে নি‌জের বা‌ড়ি‌তে আ‌ছি ম‌নে করলেও আস‌লে আ‌মি আ‌ছি কোন এক জাহা‌জে! কিন্তু জাহা‌জে‌ই বা ডায়‌নিং রুম অমনভা‌বে তালা মারা ‌কেন থাক‌বে? তাছাড়া আ‌মি আ‌ছি জাহা‌জের প্রেসি‌ডে‌ন্সিয়াল সুই‌টে, সেখান থে‌কে ডায়‌নিং টে‌বিল দেখাই বা যা‌বে কি ক‌রে? মাথাটা কেমন এ‌লো‌মে‌লো লাগ‌ছে। তৃষ্ণাটা ম‌নে হ‌চ্ছে এতক্ষ‌নে কিছুটা ম‌রে এ‌সেছে। তবুও লোভীর মত ক‌রে আ‌রেকবার তাকালাম ডায়‌নিং টে‌বি‌লে রাখা পা‌নির জগ গ্লাসগু‌লোর দি‌কে।

    তারপর অসহায়ভা‌বে কাঁধ ঝা‌কি‌য়ে চ‌লে এলাম ঘ‌রে। মজার ব্যাপার ঘরটা‌কে এখন আমার নি‌জের বাসার বেডরু‌মের মতই ম‌নে হ‌তে লাগল আবার! জা‌নি না তৃষ্ণা না ঘুম কোনটার ঘো‌রে অমন আ‌বোল তা‌বোল ম‌নে হ‌চ্ছে সব‌কিছু‌কে! যাই হোক এখন ঘু‌মি‌য়ে যাওয়াটাই বু‌দ্ধিমা‌নের কাজ হ‌বে ভে‌বে তাড়াতা‌ড়ি বিছানায় শু‌য়ে পড়লাম কাঁথাটা টে‌নে নি‌য়ে।

    পা‌নির গন্ধটা না‌কে বেশ চনম‌নে অনুভূ‌তি এ‌নে দিল আমার। নীল রঙা ম্যালামাই‌নের গ্লাসটা মাথার কা‌ছে দেখ‌তে পে‌য়ে ওটা কে দিল, কি ক‌রে দিল অত আর ভাবতে পার‌ছিলাম না। ঢক ঢক ক‌রে পা‌নির গ্লাসটা নিঃ‌শেষ ক‌রে ফেললাম একদ‌মে। আহ্, কি শা‌ন্তি! আরা‌মে চোখদু‌টো অজা‌ন্তে‌ই বু‌জে আসল, আবার ঘু‌মের অত‌লে ত‌লি‌য়ে যে‌তে যে‌তে কোনরকম হাতটা দি‌য়ে গ্লাসটা সাহায্যকারীর দি‌কে বা‌ড়ি‌য়ে দিলাম। এমন‌কি আল‌স্যের অ‌তিশ‌য্যে তার‌দি‌কে পাশটাও ফিরলাম না। বুঝ‌তে পারলাম খা‌টের পা‌শে কে‌উ এ‌সে দাঁ‌ড়ি‌য়ে‌ছে। দাঁড়াক, গ্লাসটা নি‌য়ে‌ই চ‌লে যা‌বেক্ষণ!

    একটা হাত এ‌গি‌য়ে এল খুব সন্তর্প‌ণে। কিন্তু ওমা হ‌চ্ছেটা কি এসব? কোথায় গ্লাসটা নে‌বে তা না আমার পে‌টের ওপর সাপের মত ক‌রে পেঁচিয়ে ধর‌তে লাগল ওটা। আ‌মি তখনও প্রাণপ‌নে চোখ দু‌টো‌কে টি‌পে বন্ধ ক‌রে রে‌খে‌ছি। বুঝ‌তে পার‌ছি হাতটার ই‌চ্ছে আমা‌কে খাট থে‌কে টে‌নে না‌মি‌য়ে নেওয়া। আ‌মিও গ্লাস ছে‌ড়ে দি‌য়ে বিছানা, বা‌লিশ যা পা‌চ্ছি হা‌তের কা‌ছে তাই আঁক‌ড়ে ধ‌রে প‌ড়ে যাওয়া থে‌কে নি‌জে‌কে বাঁচা‌তে চেষ্টা ক‌রে চ‌লে‌ছি। নাহ্ , শেষতক হাতটার অসু‌রিক শ‌ক্তির সা‌থে আর পে‌রে উঠলাম না। ঘু‌রে যে‌তে বাধ্য হলাম যে‌দিক থে‌কে টানটা আস‌ছে সে‌দি‌কে। এখনও আমার দু‌চোখ টি‌পে বন্ধ করা, যেন চো‌খে দেখতে পে‌লে‌ই আমার সব জা‌রিজু‌রি খতম হ‌য়ে যা‌বে! হঠাৎ হ্যাচকা টা‌নে নি‌জে‌কে আর সামলা‌তে পারলাম না, মশারী টশারী ছিঁড়ে সবশুদ্ধ হুড়মুড় ক‌রে পড়লাম খাট থেকে। বুঝ‌তে পারলাম যে টান‌ছিল সে আমার নি‌চে চাপা পড়ল। এতক্ষ‌নে আমার দু‌চোখ আর বন্ধ থাক‌তে না পে‌রে অগত্যা বিস্ফা‌রিত হল। সা‌থে সা‌থে তীব্র আতঙ্ক আমা‌কে হতবু‌দ্ধি ক‌রে ফেলল!

    আ‌মি তা‌কে অনুভব কর‌তে পারছি, বুঝ‌তে পার‌ছি তার প্রথম উ‌দ্দেশ্য সফল হ‌য়ে‌ছে। কিন্তু চো‌খে দেখ‌তে পা‌চ্ছি না তা‌কে! বুঝ‌তে পারলাম ভয়ানক কোন অশরীরীর হা‌তে ব‌ন্দি হ‌য়ে গে‌ছি আ‌মি, কারন ততক্ষ‌নে সে আমা‌কে কাঁথা মশারী সবশুদ্ধ পে‌ঁচি‌য়ে ধ‌রে‌ছে খুব শক্ত ক‌রে। আমার হাড়‌গোড়গু‌লো যেন মুড়মুড় ক‌রে শব্দ ক‌রে উঠল সে চা‌পে। নিঃশ্বাস ক্রমশ বন্ধ হ‌য়ে আস‌ছে আমার তবুও ম‌নে হ‌চ্ছে কিছু একটা করার আ‌ছে আমার। বাঁচার প্রবল আঁকু‌তি‌তে শরী‌রের সব জোর গলায় এ‌নে জ‌ড়ো করলাম। বুক ঠে‌লে চিৎকারটা আকাশ বাতাস সব ফাঁ‌টি‌য়ে দি‌য়ে বের হতে চাই‌ল। কিন্তু যে শব্দটা ছিট‌কে বের হল তার সা‌থে হা‌তির নিনা‌দের চে‌য়ে বরং ইঁদু‌রের চি‌ঁ চি‌ঁ শ‌ব্দেরই বে‌শি মিল পাওয়া গেল। কিন্তু শব্দটা যেমনই হোক আমা‌কে বাঁ‌চি‌য়ে দিল এ য‌াত্রায়। দুঃস্ব‌প্নের ঘোর থে‌কে মুক্ত নি‌জে‌কে বাস্ত‌বে ফিরে পে‌য়ে স‌স্তির নিঃশ্বাস ফেললাম অব‌শে‌ষে। আতঙ্কটা তখনও সমস্ত অ‌স্তি‌তে যেন ভে‌ঁজা কাপ‌ড়ের মত ক‌রে জ‌ড়ি‌য়ে আ‌ছে! একটু স্থির হ‌তে‌ই টের পেলাম গলাটা আস‌লে‌ই শু‌কি‌য়ে কাঠ হ‌য়ে আ‌ছে । কাঁপা হা‌তে মোবাইলটা তু‌লে দেখলাম রাত ঠিক তিনটা বা‌জে! চা‌রি‌দি‌কে শুনশান নিরবতা আর ঘন‌ঘোর অন্ধকার! তৃষ্ণাটা প্রবলভা‌বে নি‌জে‌কে জানান দি‌তে‌ই আতঙ্কটা মাথা চাড়া দি‌য়ে উঠল আবার ।

    স‌ত্যি কি আ‌মি দুঃস্ব‌প্নের নগর থে‌কে ফি‌রে আস‌তে পে‌রে‌ছি? না‌কি দুষ্টচ‌ক্রের মত তৃষ্ণার প‌রে ভয়ানক অশরীরীর অ‌স্তিত্ব আবার আমা‌কে টে‌নে নি‌য়ে যে‌তে চাই‌বে কোন অ‌চেনা ভয়াল খাঁ‌দে?

    Previous Articleকথার কাব্য : রুমানা আখতার
    Next Article আকাশের সামিয়ানা সীমাহীন ঝিল : রানা জামান

    এ বিষয়ে আরও লেখা

    স্যাংশন : অহেদুজ্জামান

    নীল শার্ট : এহছানুল মালিকী

    একটি পেয়ারা গাছের কথা : পবিত্র সরকার

    ফেরা : মাহমুদ শরীফ

    এক টুকরো কাগজ ও দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি : সৈয়দ জুনায়েদ

    একদা পাত্রীর বাবা বেবিট্যাক্সির মালিক ছিল : রফিকুল ইসলাম সাগর

    অসমাপ্ত প্রেম চিঠি : মো. ইমরান খান

    যে গল্প কবিতার মতো বেদনার : শফিক মুন্সি

    নির্জন দ্বীপে কিশোর দল : সাগর আহমেদ

    জীবনের কিছু কথা : ইসরাত রুবাইয়া

    শরীরীয় প্রেতাত্মার কথকতা : কুসুম আক্তার নেকিজা

    কেউ কারো নেই : শহিদুল ইসলাম খোকন

    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    বেওয়ারিশ সম্পর্ক : বিপ্লব হোসেন

    সোনা মোড়ানো নুড়ি পাথর : মুসলেহা সুলতানা

    অভিমানী আমি : নাজমুন নাহার লাডলী

    অনুরক্তি : মো. জয়নুল ইসলাম

    তোমাকে পাওয়ার জন্য হে সফলতা : প্রহ্লাদ কুমার প্রভাস

    দান : আফছানা খানম অথৈ

    রোজা : রুমানা আক্তার রত্না

    মানুষ : নিহাদ হোসাইন

    ভাঙা চুড়ি : নয়ন আলী নাঈম

    স্মৃতির সারথি : ইয়াছিন আরাফাত

    আমাদের সম্পর্কে

    সূর্যাক্ষর বাংলাদেশের একটি উদিয়মান প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার বই প্রকাশের পাশাপাশি আমরা লিটলম্যাগ প্রকাশ করি। লিটলম্যাগের ক্ষেত্রে আমাদের দুটি মাধ্যম আছে। একটি অনলাইন পোর্টাল, আরেকটি ছাপা ম্যাগাজিন।

    যোগাযোগ
    • ঠিকানা: ৭৯/২/বি, ৯ নং লেন, কদমতলা, বাসাবো, ঢাকা-১২১৪
    • মোবাইল: ০১৭৩৭৭২৪০৬৯, ০১৭৮২৩৭৯৮৩৭
    • ইমেইল: ‍surjakkhor@gmail.com
    • ফেইসবুক গ্রুপ: www.facebook.com/groups/surjakkhor
    লেখা আহ্বান

    প্রবন্ধ, ছড়া-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সাহিত্য সমালোচনা, অনুবাদ, ভ্রমণকাহিনি, চলমান ইস্যু নিয়ে আলোচনাসহ যেকোনো ধরনের লেখা পাঠানো যাবে। প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের একেকটা পর্ব কমপক্ষে এক হাজার শব্দের হতে হবে। কবিতায় শব্দ সংখ্যার সীমা নেই। তবে কমপক্ষে ১০/১২ লাইনের হলে ভালো হয়, ছোট হলে ছাপানো হবে না, এমনটা নয়। বড় হলেও চলবে। ই-মেইল: surjakkhor@gmail.com

    কপিরাইট সূর্যাক্ষর প্রকাশনী | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.