কফির মগে শেষ চুমুক দিয়েই
হঠাৎ আমার বাম হাতটা কাছে টেনে
দুহাতে পেচিয়ে টলমলে বেদনাতুর দৃষ্টিতে
তাকিয়ে বলেছিলে,কত আপন এই হাত !
ছাড়তে চাই না কখনও।
কথা শেষ না হতেই, দুচোখ বেয়ে টপটপ করে
বেদনাশ্রু ঝরছিলো সেই যুগল হাতের উপর।
বাড়ি ফেরার তাড়ায় উদ্বিগ্ন ছিলে কিন্তু
হাতটা ছাড়ার কোন ইচ্ছাই তোমার মধ্যে ছিল না
এমন ছোটখাটো আবেগী অনুভূতিগুলোই
হয়ত প্রেমীদের আরও বেশি ভালোবাসতে বাধ্য করে।
মনে আছে, নিরু? আমাদের প্রথম কথা হয়েছিল,
ফেসবুকের একটা পোস্টকে কেন্দ্র করে,
যুক্তি -পাল্টা যুক্তিতে দুজন কথার সাগরে জড়িয়েছি
এরপর ইনবক্সে টুকটাক কথা
বছর গড়িয়ে সময়ের স্রোতে ভেসে
দুজন যখন আরও কাছাকাছি হলাম,
একসময় দেখা করার তাগিদ অনুভব করলাম
অবশেষে একদিন কফি শপে দুজন পাশাপাশি,
শুরুতে বেশ নার্ভাস ছিলাম দুজনেই।
অবেলায় হঠাৎ বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন,
কাকগুলো ভিজে জুবুথুবু হয়ে বসে ছিল গাছের ডালে,
মাঝেমধ্যে দমকা হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছিল গাছের অবাঞ্চিত পাতাগুলোও
কাঠগোলাপের সুগন্ধি পুরো বৃষ্টিকে সুবাসিত করে তুলেছিল
তীব্র তাপদাহের পর অঝোর ধারার এই বৃষ্টিতে যেনো পৃথিবীর প্রাণ জুড়ালো!
আজও কফি শপ থেকে বের হতেই ঝুম বৃষ্টি,
নীরুর মনটা পরক্ষণেই ভালো হয়ে গেলো।
আমিও বাসার পথ না ধরে চটজলদি একটা রিক্সা ডেকে
নীরুকে সাথে নিয়ে খোলা রিক্সায় দুজনে বৃষ্টি,
আর ছেড়ে যাওয়ার বেদানাশ্রুতে আলিঙ্গন করে নিচ্ছিলাম।
না পাওয়াই যে প্রাপ্তি মগজে-মননে গেঁথে যায়
তাকে আর মুছে ফেলতে পারে না কোনোকিছুই।
সেই প্রাপ্তি সুতীব্র ব্যাথার মতো অস্তিত্বের মাঝে
বহমান থাকে জীবনের বিস্তীর্ণ আবাদভূমি জুড়ে আজন্মকাল।

