রাত ৩.৩০ এ হঠাৎ করে নবনীর ঘুম ভেঙে গেলে আলো না জ্বালিয়েই ডাইনিং টেবিলে রাখা জগ থেকে পানি খাওয়ার জন্য দৌড়ে যায়। কিন্তু পানিটা মুখে দিতেই আঁতকে উঠে, পানিটা নোনতা স্বাদ আর উদ্ভট গন্ধে ভরা। সে গড়গড় করে বমি করে সব ভাসিয়ে ফেলে। আর তখনি আলো জ্বালাবার জন্য হাত বাড়াতেই লোমশ ধবধবে সাদা একটি হাত ওর হাত স্পর্শ করে। হাতটির স্পর্শের শীতলতায় ও ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ওর চিৎকারে বাড়ির সবাই জেগে ডাইনিংয়ের দিকে দৌড়ে আসে। ওকে এ অবস্থায় দেখে বাবা পাঁজাকোলা করে ওর বিছানায় শুইয়ে দেয়। কিন্তু ওর জ্ঞান ফেরার নাম নেই। দাদি দোয়া-দরুদ পড়ে ফুঁ দিলে এক সময় চোখ মেলে তাকায়।
সবাইকে দেখে হকচকিয়ে জানতে চায় কি হয়েছে ওর সবাই এখানে কেন? অনেক চেষ্টা করে ও সে কিছুই মনে করতে পারে না। রাত শেষে ভোর হলে যে যার মতো চলে যায়। নবনী ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে ঢুকতেই নবনীর মুখে ঐ হাতটি পরশ ভুলিয়ে দেয়। নবনী থরথর করে কাঁপতে থাকে। পানির কল ছেড়ে দিলে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়তে থাকে। ও আবার জ্ঞান হারায়। এভাবে নবনী কোন কাজ করতে গেলেই বিপত্তি বাধে। ওর লেখাপড়া শিকেয় উঠলো।
নবীনদের বাড়ির পিছনে একটি তেঁতুলগাছ ছিল। গাছটিতে ছোট ছোট ফুল আসলেও তেঁতুল ধরতে কেউ কখনো দেখেনি। গত পনের দিন আগে ওর দাদা লোক ডেকে গাছটি বিক্রি করে দিলে কাঠুরিয়া দিয়ে ওরা কেটে নিয়ে যায়। গাছটি কাটার সময় কাঠুরিয়ার ছেলে গাছের নিচে পড়ে গেলে পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।
নবনীর এ অবস্থা দেখে ওর মা চিন্তিত হয়ে গ্রামের ছোট হুজুরকে ডেকে আনে। ছোট হুজুর বাড়িতে পা দিতেই নবনী রুদ্র মূর্তি ধারণ করে। একটি লাঠি নিয়ে ছোট হুজুরের মাথায় বাড়ি দিতেই হুজুর ভৌঁ দৌড় দেয়। এবার মাকে টেনেহিঁচড়ে এনে নাকি সুরে বলে ঐ বুড়ি আমার গায়ে আগুন দিবার চাস! তরে কাঁচা খামু।
এবার সবার মনে ভয় ঢুকে যায়।
নবনীর চোখ দুটো টকটকে লাল হয়ে গেছে। যেন চোখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। ভাঙচুর করছে। ওর ভাই এসে হাত দুটো পিছমোড়া করে বেঁধে দিল। এবার ও বিলাপ জুড়ে দিল।
সারা গাঁয়ে ঢি ঢি পড়ে গেলে নবনী পাগল হয়ে গেছে। এর মধ্যে হঠাৎ ওদের বাড়িতে এক জটাধারী লোক আসে। হাতে তেল চিটচিটে এক কালো লাঠি। গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। লোকটা এসে সোজা নবীনদের ঘরের সামনে গিয়ে ঠকঠক করে দরজায় টোকা দিতে থাকে। নবনী দৌড়ে এসে লোকটার পায়ে পড়ে বলে আমায় মেরো না, আমি চলে যাবো। ওরা আমার ঘর ভেঙেছে, বাবুকে মেরেছেÑএ বলে কাঁদতে কাঁদতে হেচকি তুলে ফেলে। জটাধারী নবনীর মাথায় পরম মমতায় হাত রাখতেই কুন্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া বের হয়।

