Close Menu
সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    Facebook X (Twitter) Instagram
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    • প্রবন্ধ
    • উপন্যাস
    • গল্প
    • কবিতা ও ছড়া
    • সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিচারণ
    • বই
    • প্রিন্ট ভার্সন
    0 Shopping Cart
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    0 Shopping Cart
    Home » স্বপ্ন : সাদেকুল ইসলাম

    স্বপ্ন : সাদেকুল ইসলাম

    0
    By সূর্যাক্ষর অ্যাডমিন on May 31, 2024 গল্প
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    চঞ্চল, হাসিখুশি, মায়ামাখা ও লাবণ্যময় মেয়ে রূপা। গরিব বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান সে। মেয়েটি দেখতে যেমন মায়াবী, তেমনি বুদ্ধিমতীও বটে। সেবার রূপা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল। রূপার বাবা একজন রিকশাচালক। পরিবারের অসচ্ছলতার কারণেও রূপাকে তার বাবা ভালো কোথাও ভর্তি করাতে পারেনি। পাশের গ্রামের একটা বালিকা বিদ্যালয়ে তাকে ভর্তি করে দেয়।

    দেখতে দেখতে কেটে যায় দুটি বছর। রূপা সপ্তম শ্রেণিতে ভালো রেজাল্ট করে অষ্টম শ্রেণিতে ওঠে। রূপার বয়স যখন চৌদ্দ, তখন তার বয়ঃসন্ধিকাল। বয়ঃসন্ধিকালের জন্য পরিবর্তন আসে রূপার শরীরে। পরিবর্তন হতে থাকে তার চলাফেরায় ভাবভঙ্গিতেও আর দশজন বয়ঃসন্ধিকালের মেয়ের মতো সেও কারোর সাথে তেমন মেশে না, সব সময় একা থাকতে চায়।

    রূপার বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় তাকে না পারে সাইকেল কিনে দিতে কিংবা প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের ভাড়া দিতে। তাই রূপাকে কষ্ট করে হেঁটেই প্রায় তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়।

    প্রতিদিনের ন্যায় রূপা একদিন একা হেঁটে হেঁটে স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরছিলো, হঠাৎ দু’-তিনটে ছেলে তার পিছু নেয়, জোরে জোরে মুখে নানা রকম অশ্লীল শব্দ করতে থাকে,সেইসঙ্গে রূপাকে নানান ভাবে উত্যক্তও করতে পিছপা হয় না।

    রূপা কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ বাসায় ফিরে আসে। ঘরে ফিরেই চুপচাপ তার বিছানায় শুয়ে পড়ে,এদিকে তার মা, মেয়ের এরকম কাণ্ড দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে ছুটে আসে রূপার কাছে। জিজ্ঞেস করে, ‘রূপা! ও রূপা! কি হয়েছেরে মা তোর? আজ কেন জানি না স্কুল থেকে বাড়িতে এসেই বিছানায় শুয়ে পড়লি?

    তোর কিছু হয়েছে নাকি মা? তোর কি শরীর খারাপ করছে?

    মায়ের এত প্রশ্ন শুনে রূপা একটা কথাই বলে দেয়, আমার কিছুই হয়নি মা, আমি এমনিই শুয়ে আছি।

    এভাবে কেটে গেল বেশ কয়েকদিন, রূপার সাথে প্রতিনিয়তই ঘটছে বখাটে ছেলেদের এরকম উত্ত্যক্ত করার কাহিনী। রূপা এরকম সময় (বয়ঃসন্ধিকালের সময়) কারোর সাথে মেশে না। না পারে কারোর সাথে তার সমস্যার কথাগুলো শেয়ার করতে, না পারে বখাটে ছেলেদের কুরুচিপূর্ণ আচরণ সহ্য করতে।

    পরিশেষে রূপা তার মাকে সব কিছু খুলে বলে।

    এদিকে রূপার মা, মেয়ের এরকম কথা শুনে খুব ভয় পেয়ে যায়, রূপার বাবাকে সবকিছু খুলে বলে। রূপার বাবা মেয়ের এরকম কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যায়। তারা দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেয় রূপাকে বিয়ে দিয়ে দেবে। বন্ধ করে দেয় রূপার স্কুলে যাওয়া। এভাবে কেটে গেল ছয় দিন। রূপার কিছুই ভালো লাগে না, সে ঘরে বসে থাকতে চায় না, তার মধ্যে রয়েছে অদম্য প্রতিভা, রয়েছে একজন ডাক্তার হওয়ার তীব্র স্বপ্ন। কিন্তু তার সাথে ঘটে যাওয়া এরকম অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য তাকে থাকতে হছে বাড়িতে।

    এভাবে চলতে চলতে একদিন পাশের গ্রাম থেকে এক ঘটক আসে রূপাদের বাড়িতে,রূপার বাবার সাথে কি যেন কথা বলে সেই ঘটক, যা রূপা ঘর থেকে শুনতে পায়।

    আসলে ঘটক এসেছে রূপার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে, ছেলের বাবার অনেক জমি-জমা আছে, শুধু তাই নয়,রয়েছে পাকা বাড়ি। যেই কথা সেই কাজ। ঘটকের কথামতো ছেলে পক্ষ আসে রূপাকে দেখতে, রূপার রূপলাবণ্য দেখে তারা পছন্দ করে, যৌতুক ছাড়াই দেন বিয়ের প্রস্তাব। বিয়ের দিনও ঠিক করা হলো। রূপা বিয়ে করতে না চাইলেও তার বাবা- মা তাকে নানান ভাবে বুঝিয়ে বিয়ে দিয়ে দেন।

    রূপা একটা বাচা মেয়ে বয়স মাত্র চৌদ্দ, আর ছেলেটার বয়স হবে প্রায় সাতাশ বছর। রূপা তার স্বপ্নকে দমিয়ে দিয়ে শুরু করে স্বামীর সাথে সংসার। দেখতে দেখতে কেটে গেল রূপার বৈবাহিক জীবনের একটি বছর। প্রথমত রূপার স্বামী তাকে আদর যত্ন করলেও পরে তার সাথে শুরু করে অন্যরকম ব্যবহার। তার কারণ, রূপার স্বামী মাদকাসক্ত ছিল। রূপা মা হতে চলেছে, চার মাসের গর্ভবতী হলো রূপা। রূপার শাশুড়ি তাকে দিয়েই সব কাজ করিয়ে নিত, একটুতেই বকাঝকা শুরু করেন।

    রূপার স্বামীও তার সাথে বাজে ব্যবহার করতে থাকে, কথায় কথায় তার উপরে হাত তোলে।

    শুরু হয় রূপার প্রতি শারীরিক নির্যাতন। রূপা একদিন এর প্রতিবাদ করলে,তার স্বামী তাকে খুব মারধর করে, রূপা অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে জ্ঞান ফিরলে আবার তাকে মারধর করে তার বাবার কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। রূপা কিছুই বলতে পারে না, তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় আর দুই লাখ টাকা আনতে বলে।

    রূপা বাড়িতে এসে তার বাবা-মাকে সব ঘটনা খুলে বলে, মেয়ের এরকম দুর্দশার কথা শুনে রূপার মা কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। তারা রূপার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও রূপার স্বামী স্পষ্ট করে বলে দেয় দুই লাখ টাকা সমেত মেয়েকে পাঠাবেন আর না হলে আর কোনোদিন পাঠাবেন না। ভেঙে পড়ে রূপার বাবা। টাকা জোগাড় করতে না পারায় রূপাকে তাদের বাসায় রেখে দেন। দিন গেল, মাস গেল এভাবে ঘনিয়ে এলো রূপার বাচা প্রসবের সময়।

    ৯ মাস যেতেই শুরু হয় রূপার প্রসব বেদনা। কষ্টে ছটফট শুরু করে রূপা। টানা দুদিন প্রসব বেদনায় রূপা ছটফট করলেও হাসপাতালে ভর্তি করার টাকা জোগাড় করতে না পেরে অবশেষে রূপার বাবা তার রিকশা বিক্রি করেন, সে টাকা দিয়ে রূপাকে হাসপাতালে ভর্তি করান।

    মেডিকেলের ডাক্তাররা জানান, রোগীর অবস্থা ভালো নয়। তারা অনেক চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি রূপাকে। গর্ভকালীন সময়ে রূপার ওপর অমানবিক নির্যাতন, অগাধ শারীরিক পরিশ্রম ও বয়স কম হওয়ার কারণে রূপা বাচা প্রসবের সময় মারা যায়। তার গর্ভ থেকে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান। রূপার বাবা-মায়ের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তাদের একমাত্র মেয়েকে চিরতরে হারিয়ে তারা পাগলপ্রায়। কিন্তু রূপার রেখে যাওযা চাঁদের মতো ফুটফুটে বাচাকে বুকে আগলে ধরে চোখের জল মোছে রূপার বাবা -মা। তারা রূপার বাচার নান রাখেন ‘ঈপ্সিতা’।

    আমাদের সমাজে আজকাল, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, যৌতুক,পণপ্রথা, নারী নির্যাতন ও অকাল মৃত্যু অহরহ ঘটেছে। তাই সমাজের সকলের নিকট লেখকের আকুল নিবেদন, সমাজ, রাষ্ট্র তথা পুরো দেশ থেকে যেন এই ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, পণপ্রথা, নারী নির্যাতন ও অকাল মৃত্যু অচিরেই বন্ধ হয়ে যায়, সেই লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে।

    Previous Articleনিয়তি : তাজুল ইসলাম
    Next Article সেই একজন : কাশফিয়া নাহিয়ান

    এ বিষয়ে আরও লেখা

    স্যাংশন : অহেদুজ্জামান

    নীল শার্ট : এহছানুল মালিকী

    একটি পেয়ারা গাছের কথা : পবিত্র সরকার

    ফেরা : মাহমুদ শরীফ

    এক টুকরো কাগজ ও দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি : সৈয়দ জুনায়েদ

    একদা পাত্রীর বাবা বেবিট্যাক্সির মালিক ছিল : রফিকুল ইসলাম সাগর

    অসমাপ্ত প্রেম চিঠি : মো. ইমরান খান

    যে গল্প কবিতার মতো বেদনার : শফিক মুন্সি

    নির্জন দ্বীপে কিশোর দল : সাগর আহমেদ

    জীবনের কিছু কথা : ইসরাত রুবাইয়া

    শরীরীয় প্রেতাত্মার কথকতা : কুসুম আক্তার নেকিজা

    কেউ কারো নেই : শহিদুল ইসলাম খোকন

    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    বেওয়ারিশ সম্পর্ক : বিপ্লব হোসেন

    সোনা মোড়ানো নুড়ি পাথর : মুসলেহা সুলতানা

    অভিমানী আমি : নাজমুন নাহার লাডলী

    অনুরক্তি : মো. জয়নুল ইসলাম

    তোমাকে পাওয়ার জন্য হে সফলতা : প্রহ্লাদ কুমার প্রভাস

    দান : আফছানা খানম অথৈ

    রোজা : রুমানা আক্তার রত্না

    মানুষ : নিহাদ হোসাইন

    ভাঙা চুড়ি : নয়ন আলী নাঈম

    স্মৃতির সারথি : ইয়াছিন আরাফাত

    আমাদের সম্পর্কে

    সূর্যাক্ষর বাংলাদেশের একটি উদিয়মান প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার বই প্রকাশের পাশাপাশি আমরা লিটলম্যাগ প্রকাশ করি। লিটলম্যাগের ক্ষেত্রে আমাদের দুটি মাধ্যম আছে। একটি অনলাইন পোর্টাল, আরেকটি ছাপা ম্যাগাজিন।

    যোগাযোগ
    • ঠিকানা: ৭৯/২/বি, ৯ নং লেন, কদমতলা, বাসাবো, ঢাকা-১২১৪
    • মোবাইল: ০১৭৩৭৭২৪০৬৯, ০১৭৮২৩৭৯৮৩৭
    • ইমেইল: ‍surjakkhor@gmail.com
    • ফেইসবুক গ্রুপ: www.facebook.com/groups/surjakkhor
    লেখা আহ্বান

    প্রবন্ধ, ছড়া-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সাহিত্য সমালোচনা, অনুবাদ, ভ্রমণকাহিনি, চলমান ইস্যু নিয়ে আলোচনাসহ যেকোনো ধরনের লেখা পাঠানো যাবে। প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের একেকটা পর্ব কমপক্ষে এক হাজার শব্দের হতে হবে। কবিতায় শব্দ সংখ্যার সীমা নেই। তবে কমপক্ষে ১০/১২ লাইনের হলে ভালো হয়, ছোট হলে ছাপানো হবে না, এমনটা নয়। বড় হলেও চলবে। ই-মেইল: surjakkhor@gmail.com

    কপিরাইট সূর্যাক্ষর প্রকাশনী | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.