একতাল মাটি পড়ে ছিল প্রান্তরে। প্রথম ভাস্করের প্রবেশ ঘটলো। কোমল মৃত্তিকা দেখে তার মনে এক অসাধারণ স্বপ্নের সঞ্চার হলো। তিনি ঠিক করলেন এই তাল তাল মাটিকে তিনি একটি দৃঢ়চিত্ত মানবের রূপ দেবেন। সে প্রান্তরের দক্ষিণ কোণে বসে একটু একটু করে তাল তাল মাটিকে মানবরূপে গড়ে তুলতে শুরু করলেন। ধীরে ধীরে তাল তাল স্তূপাকৃত মৃত্তিকা মানবে পরিণত হচ্ছিলো। ঠিক এমন সময় ভাস্করের মনে পড়লো তার তো একটি সভায় যাবার কথা। তিনি নিজেকে কটূক্তি করলেন এবং ভাবলেন অনর্থক সময় আর নষ্ট করা যাবে না। এখনই নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা করতে হবে। প্রথম ভাস্করের প্রস্থান ঘটলো। মাটির ঢেলা অর্ধ মানব রূপে প্রান্তরে পরে রইলো।
কিছুকাল পরে দৃশ্যপটে দ্বিতীয় ভাস্করের প্রবেশ ঘটলো। অর্ধ মানব কোমল মৃত্তিকা দেখে তার মনে এক অসাধারণ স্বপ্ন আসলো। তিনি ঠিক করলেন এই তাল তাল মাটিকে তিনি একটি দেবদূতে রূপ দেবেন। তিনি প্রান্তরের দক্ষিণ কোণে বসে মানবাকৃতির মাটির ঢেলায় পাখা বসাতে শুরু করলেন। ঠিক এমন সময় ভাস্করের মনে পড়লো গৃহে তার শিশুটি একা। তিনি আপন অস্থিরতায় প্রস্থান করলেন। প্রস্থানের সময় তার হাত থেকে পড়ে যাওয়া মাটির ঢেলার একটি পাখা ভেঙে গেলো। মাটির ঢেলা অর্ধ মানব অর্ধ দেবদূত রূপেই প্রান্তরে পরে রইলো।
কিছুকাল পর দৃশ্যপটে তৃতীয় ভাস্করের প্রবেশ ঘটলো। পড়ে থাকা মাটির মূর্তি দেখে তিনি চিন্তায় নিমগ্ন হলেন। এই অর্ধ মানব অর্ধ দেবদূতরূপী মাটির পুতুল দেখে তার মনে প্রশ্নের উদ্রেক ঘটলো। তিনি ভেবে বসলেন হয়তো বা এর স্রষ্টা একে স্বর্গচ্যুত অপরাধী দেবদূত রূপে সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন, যা কোন কারণে অর্ধমানব অর্ধ দেবদূতরূপী কোমল মৃত্তিকার ঢেলাটিকে ধীরে ধীরে পাশবিক উদ্ধত স্বর্গচ্যুত মূর্তিতে পরিবর্তিত করতে শুরু করলেন। কাজ প্রায় শেষের দিকে এমন সময় প্রান্তরের পূর্ব পাশে অবস্থিত উপাসনালয়ের প্রার্থনা সঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে ভাস্কর অর্ধ মানব অর্ধ দেবদূত অর্ধ শয়তানরূপী মাটির ঢেলাকে ছুড়ে ফেলে উপাসনালয়ের দিকে যাত্রা করলেন।
ধীরে ধীরে বিকেল গড়িয়ে এলো। প্রান্তরের সবুজ ঘাসে মাটির মূর্তি পরেই ছিল নিমগ্ন নির্জনে। একদল দুরন্ত বালক হঠাৎ করে তাকে আবিষ্কার করলো। তারা তাদের মতো মাটির ঢেলা নিয়ে খেলতে শুরু করলো। তারা মাটির ঢেলার বিভিন্ন অংশে আঘাত করে তাকে আরো কিম্ভুতকিমাকার করে তুললো। একসময় তারা মাটির ঢেলার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেললো এবং প্রান্তরের দক্ষিণ কোণে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে নিজেদের মতো যে যার ঘরে চলে গেল।
কোমল মাটি অগ্নির বন্ধনে দৃঢ় আবদ্ধ হয়ে পুড়তে পুড়তে শক্ত ও কালো হয়ে উঠলো। সেই কোমল মৃত্তিকা পুড়ে পুড়ে খাঁক এক অদ্ভুত মূর্তির আকার লাভ করলো এবং বন্ধু হিসেবে অগ্নিকেই বেছে নিলো।

