Close Menu
সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    Facebook X (Twitter) Instagram
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    • প্রবন্ধ
    • উপন্যাস
    • গল্প
    • কবিতা ও ছড়া
    • সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিচারণ
    • বই
    • প্রিন্ট ভার্সন
    0 Shopping Cart
    সূর্যাক্ষরসূর্যাক্ষর
    0 Shopping Cart
    Home » প্যালেস অফ সিঙ্গিং ঘোস্ট : আফসানা নীতু

    প্যালেস অফ সিঙ্গিং ঘোস্ট : আফসানা নীতু

    0
    By সূর্যাক্ষর অ্যাডমিন on May 31, 2024 গল্প
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    ললিতার এখনো বিশ্বাস হতে চাইছে না যে রাজস্থানের একজন রাজপুত্র তাকে শুধু প্রেম নিবেদনই করেনি বরং তাকে সারাটা জীবনের জন্য তার নিজের করে নিতে চেয়েছে। সে তার বাম হাতের অনামিকার চকচকে হীরার আংন্টিটায় নিজের ভবিষ্যৎ দেখে বিস্মিত হয়।

    দুমাস আগেও সে ভাবতে পারেনি তার জীবনটা এমন হবে। সাংবাদিকতায় পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে সবেই কলকাতার একটি স্থানীয় নিউজ চ্যানেলে জয়েন করেছে সে। এই চ্যানেলের সিনিয়র নিউজ রিপোর্টার অরুণ মিত্র তার আপন পিসতুতো ভাই। সে’ই তাকে এখানে সুযোগ করে দিয়েছে। তবে এ লাইনে একেবারে আনকোরা বলে তার ভাগ্যে এখন পর্যন্ত তেমন কোন জমজমাট খবর জোটেনি। খুটখাট এলাকাভিত্তিক নিউজ কাভার করে করে ললিতা মোটামুটি বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাই অরুণ মিত্র তাকে ডেকে নিয়ে যখন রাজস্থানে এমন এক রাজকীয় পাঁচতারা হোটেল নিয়ে গল্প তৈরি করতে বলেন যেখানে কিনা ভূতেরা সারারাত গান বাজনা করে, তখন ললিতা খুব একটা খুশি না হতে পারলেও না করতে পারে না।

    অরুণ ললিতাকে ডেকে বলেন, ‘তুমি একলা গিয়ে নিউজটা কভার করতে পারবে না? সব সময় তো বল আমি তোমাকে তেমন ইন্টারেস্টিং কিছু দিছি না! গিয়ে দেখে আসো না হয় একবার। বড় একটা জমজমাট নিউজ চাই কিন্তু!’

    এত জরুরী তলব করে এনে শেষমেষ তাকে কিনা ভূতের হোটেল দেখতে পাঠাচ্ছে অরুণ মিত্র! ললিতার মনটা খারাপ হয়ে যায়। তার বেজার মুখ দেখে অরুণ ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরে বলে, ‘আহা! অনেক ভেবেচিন্তেই আমি তোমাকে ওখানে পাঠাছি কিন্তু। হোটেলটা একটি রাজপ্রাসাদের একাংশে গড়ে উঠেছে। আর সেই রাজার ছেলেই স্বয়ং তাদের হোটেলের খবর প্রকাশের জন্য আমাদেরকে রীতিমতো দাওয়াত দিয়েছে। যাও রাজস্থানে ঘুরে এসো। তাছাড়া তুমি তো আর একা যাচ্ছ না, সঙ্গে পুরো টিম যাচ্ছে। আমি সঙ্গে ক্যামেরাম্যান জয়দেবকে পাঠাচ্ছি, ওকে আমি সব বুঝিয়ে দিয়েছি। তুমি শুধু খবরটা এমন ভাবে তৈরি করবে যা দেখে ওই রাজ পরিবার খুশি হয়ে যায়। বুঝতেই পারছ…’

    ললিতা মনে মনে জিভ ভেংচে ভাবে, বেশ বুঝতে পারছি! এজন্য নিউজ চ্যানেল বেশ মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে বসে আছে। আর এখন আমাকে পাঠাছে বলির পাঁঠা করে।

    ললিতা মনে মনে যাই বলুক, মুখে তো আর সেটা বলা যায় না! তাই এক সপ্তাহ বাদে চ্যানেলের টিমের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে খবরের সন্ধানে। তবে এখানে এসে তার ধারণা পাল্টে যায়। রাজ পরিবারের অতিথি হিসেবে তাদের বেশ যত্নআত্তি করা হয়। রাজপ্রাসাদ দেখে রীতিমতো চমকে যায় ললিতা।

    খটখটে প্রকৃতির মাঝে বিশাল রাজপ্রাসাদ আর তার একাংশে এই চমৎকার হোটেল… প্যালেস অফ সিঙ্গিং ঘোস্ট ! প্রথম দুদিনে রাজপ্রাসাদে ঘুরে ঘুরে সব দেখে ললিতা, তবে রাজবাড়ির কারো টিকির নাগালটিও পায় না। তৃতীয় দিন রাজপুত্র সুশান্ত সিং তাকে ডেকে পাঠান। প্রথম দেখাতেই হোঁচট খায় ললিতা। কৃষ্ণবর্ণের কোন মানুষ যে এত সুন্দর হতে পারে সুশান্ত সিংকে না দেখলে তার জানা হত না। তিনি দেখতেই যে শুধু আকর্ষণীয় তাই নয়, তার আচার-আচরণ সবকিছুই মার্জিত এবং সুন্দর। প্রথম দেখাতেই ললিতা তার প্রেমে পড়ে যায়। তবে মনে মনে তার জন্য লজ্জিত বোধ করে। কোথায় রাজপুত্র সুশান্ত সিং, এত বড় রাজ্যের রাজপুত্র! আর কোথায় কলকাতার এঁদো গলির ললিতা!

    তবে পরিচয় পর্বের পরপর রাজপুত্র নিজেও যে তার প্রতি কিছুটা আগ্রহী সেটা ধরতে পারে ললিতা। মেয়েরা পুরুষদের চোখ পড়তে পারে, তাই অপরূপ সুন্দরী ললিতাও বুঝতে পারে ভেতরে ভেতরে সুশান্ত সিং নিজেও ললিতার মত প্রেম সাগরে হাবুডুবু না খেলেও পা ভিজিয়েছেন নিশ্চিত।

    সুশান্ত সিংয়ের ইন্টারভিউ নেয়ার সময় ললিতা তাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘আছা, শুনলাম আপনাদের এই হোটেলে নাকি ভূতেরা রাতে গান-বাজনা করে?’

    সুশান্ত সিং তাই শুনে দরাজ গলায় হেসে বলে, ‘এটা নিয়ে কথা বলার জন্যই তো আপনাদেরকে এখানে অতিথি করে আনলাম। দেখুন, এই রাজ পরিবারের আমি একমাত্র উত্তরাধিকারী। রাজ পরিবারে জন্ম নেবার পরও আমার গান-বাজনার দিকে সবসময়ই খুব আগ্রহ ছিল। তবে চাইলেই তো হলো না! আমরা জমজ দুই ভাই ছিলাম, সুশান্ত এবং প্রশান্ত। আমার মত প্রশান্তেরও গান-বাজনার প্রতি খুবই নেশা ছিল। তবে বেচারা খুব অল্প বয়সে একটা অ্যাক্সিডেন্টে এই রাজপ্রাসাদেরই ওয়াচ টাওয়ার থেকে পা পিছলে পড়ে মৃত্যুবরণ করে। প্রশান্তের মৃত্যুর পর আমি রাজা এবং রানী সাহেবার সব আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠি। আমাকে নিয়েই তাদের সব স্বপ্ন। সেই অবস্থায় আমার নিজের গান বাজনার স্বপ্ন একেবারে ফিকে মনে হয়। আমি নিজেও চেষ্টা করি গান বাজনার ভাবনা বাদ দিয়ে পারিবারিক সহায় সম্পত্তি ও ব্যবসায় মননিবেশ করতে। কিন্তু সমস্যা হছে আমি মন থেকে কিছুতেই গান বাজনার ভাবনা বাদ দিতে পারছিলাম না। ঠিক এমন সময় মাথায় বুদ্ধিটা আসে…’

    ললিতা খুব আগ্রহ নিয়ে জানতে চায়।

    ‘কী?’

    ‘প্রশান্ত আমার জমজ ভাই ছিল। ছোটবেলা থেকে আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। তাই তাকে ভুলে থাকা আমার জন্য সত্যি কষ্টকর! প্রায়ই প্রশান্তের কথা মনে পড়তো। প্রশান্ত যেই টাওয়ার থেকে পা পিছলে পড়ে মারা গেছে, আগে সেখানে বসে আমরা দুই ভাই প্রায় রাতেই গান গাইতাম। তাই প্রশান্তের কথা মনে পড়লেই চুপিচুপি গিটার নিয়ে চলে যেতাম টাওয়ারে, আর একা একা গলা ছেড়ে গান গাইতাম মাঝরাতে। কিছুদিন বাদে জানতে পারলাম রাজপ্রাসাদে কানাঘুষা চলছে, প্রশান্তের আত্মা নাকি প্রাসাদে ভূত হয়ে ফিরে এসেছে এবং ওয়াচ টাওয়ারে বসে রাতের বেলা সে গান করে। ব্যাপারটা প্রথমে খেলার ছলে নিলেও পরে মাথায় একটা বুদ্ধি আসে। এরপর আমি প্রতি রাতে ওখানে বসে গান বাজনা শুরু করি, আর সকালে ভাবখানা এমন দেখাই যে সবার সঙ্গে আমিও এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছি। রাজপ্রাসাদে যখন এই নিয়ে আতঙ্ক তুঙ্গে তখন একদিন রাজা সাহেব ও রানী সাহেবাকে গিয়ে বলি, আমি স্বপ্নে দেখেছি প্রশান্ত আমাকে বলেছে আমি যেন ওই টাওয়ারে গিয়ে গান-বাজনা করি। তাই শুনে তারা আরও ভয় পেয়ে যান এবং আমাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন ওখানে যেতে। তখন আমি তাদের বোঝাই, আমি সাথে লোক নিয়ে যাব। তবে প্রশান্ত আমাকে কি বলতে চায় সেটা আমার জানতে হবে। ওখানে গিয়ে গান-বাজনা করেই দেখি কি হয়! আমি বাজিয়ে দলের সঙ্গে সেখানে চলে যাই এবং সারারাত গান করি। ফলে প্রশান্ত আর সেদিন ওখানে গান গাইতে আসে না। বুঝতেই পারছেন কেন আসে না!’

    এই বলে সুশান্ত সিং আপন মনে একটু হাসে। তারপর আবার বলা শুরু করে, ‘এভাবে এক সপ্তাহ গান-বাজনা করার পরে আমি প্রচার করি যে, আমরা যদি নিয়মিত ওখানে গান-বাজনা করি তাহলে প্রশান্তের ভূত আর এখানে গান বাজনা করবে না। কেননা প্রশান্ত যেহেতু গান-বাজনা পছন্দ করত, তাই সে শুধু চাইছে এখানে নিয়মিত গান-বাজনা হোক। রাজা সাহেব এবং রানী সাহেবা ব্যাপারটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেন এবং ঠিক করেন আমাকে গানের তালিম দেবেন যাতে আমি ভালো গান গাইতে পারি। ব্যাস আমার স্বপ্ন পূরণের রাস্তা খুলে যায়! সারাদিন নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য যা কিছু নিয়েই ব্যস্ত থাকি না কেন সন্ধ্যার পর টাওয়ারে উঠে মন খুলে গান-বাজনা করি। রাজা সাহেব দেশের বরেণ্য সব গাইয়েদের নিয়ে আসেন আমাকে তালিম দেবার জন্য, যাদের ছায়া তলে থেকে আমি গানের তালিম বেশ ভালোভাবেই আয়ত্ত করি। এত বড় রাজপ্রাসাদ আমাদের কোন কাজেই আসছে না, তাই এর একাংশ মানে যে দিকটায় এখন হোটেল দেখছেন ওই দিকটায় প্রশান্তের মৃত্যুর পর লোকজনের আনাগোনা খুব কম ছিল। তাই অনেক ভেবে চিন্তে সেখানে একটা ফাইভ স্টার হোটেল তৈরীর কথা ভাবি। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের যেমন প্রসার ঘটবে, সেইসঙ্গে আমার গানের চর্চাও ভালোভাবে হবে। রাজা সাহেবকে বুঝিয়ে শুনিয়ে এর ব্যবস্থাও করে ফেলি। এখন প্রায় প্রতি রাতে এখানে আমাদের গানের আসর বসে। পৃথিবীর বিভিন্ন কোনা থেকে ভালো ভালো সংগীত শিল্পীরা এখানে আমন্ত্রিত হয়, যারা হোটেলের অতিথিদের গান গেয়ে শোনায়।’

    পুরোটা শোনার পর ললিতা বেশ অবাক হয়। একটু যে মনঃক্ষুণ্ন হয় না তা নয়, বরং সেই সঙ্গে বিরক্তও বোধ করে। কোথায় ভেবেছিল এখানে এসে রগ রগে ভুতের একটা স্টোরি বানিয়ে সবাইকে চমকে দেবে। অথচ শেষমেশ কিনা জানা গেল পুরোটাই মিথ্যে! তবে সুসান্ত সিং তাকে এ খবরটা কেন প্রচার করতে বলছে বুঝতে পারেনা ললিতা।

    সুশান্তকে জিজ্ঞাসা করতেই সে মৃদু হেসে বলে, ‘সেটা না হয় অন্য কোনদিন বলব। এখন আপনি এতোটুকু খবরই প্রচার করুন। সেই সঙ্গে মন ভরে আমাদের আতিথেয়তা উপভোগ করুন।’

    এখানে রাজ পরিবারের আতিথেয়তায় প্রায় দু’সপ্তাহ কেটে যায়।

    সুশান্ত প্রতিদিনই নানা ছুতোয় ললিতাকে একলা ডেকে পাঠায়। দুজন একসঙ্গে রাজপ্রাসাদের কোনা কোনা ঘুরে বেড়ায়। পুরো দুটো সপ্তাহ যেন প্রজাপতির ডানায় ভর করে উড়ে যায়।

    যদিও ভেবেছিল খবরটা খুব একটা আকর্ষণীয় হবে না, কিন্তু ফিরে আসার পর বেশ ভালোই বাহবা পায় ললিতা এবং জানতে পারে সুশান্ত সিং নিজেও নাকি ফোন করে তার অনেক প্রশংসা করেছে। ললিতা কলকাতা তো ফেরে কিন্তু তার মনটা রয়ে যায় সেই বালুময় প্রান্তরে। বারবার ঘুরে ফিরে কেবল মনে পড়ে রাজপুত্র সুশান্ত সিংকে, যে কিনা সন্ধ্যা হলেই তার তানপুরা নিয়ে বসে পড়ে গানের আসরে। যার মায়াভরা ভরাট সুরেলা কণ্ঠ তার কানে গুঞ্জন তোলে, কাঁপন তোলে বুকে।

    কলকাতা ফেরার একমাস পর সুশান্ত সিং এক রাতে তাকে ফোন করে। তার ফোন পেয়ে বেশ অবাক হয় ললিতা। জানতে পারে, তাদের নিউজ চ্যানেলের অফিস থেকেই নাকি তার নাম্বারটা জোগাড় করেছে সে। সুশান্ত তাকে জানায়, খুব শীঘ্রই তার ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকী আসছে। সেই উপলক্ষে হোটেলে বেশ বড়সড় গান-বাজনার আয়োজন করা হবে। তার জন্যই তাকে দাওয়াত দিতে ফোন করেছে সুশান্ত।

    সুশান্ত তার ভরাট কণ্ঠে ব্যাপক আহ্বান নিয়ে বলে, ‘আপনি আসলে খুব খুশি হব মিস ললিতা।’

    ব্যাস! আর কিছু কি বলার প্রয়োজন আছে? ললিতা রঙিন প্রজাপতির মতো উড়তে উড়তে চলে যায় রাজস্থান। অনেকদিন বাদে দেখা হওয়ার পর দুজনার চোখে চোখ পড়তেই দুজন বুঝতে পারে দুজন দুজনার ভালোবাসার চোরা গলিতে বেশ ভালোভাবেই পথ হারিয়েছে।

    এরপরের এক সপ্তাহ…

    একথা সে কথায় কাটাবার পর আজ সন্ধ্যায় সুশান্তের একজন বিশ্বস্ত কর্মচারী এসে তাকে একতোড়া গোলাপ আর সঙ্গে একটা ছোট্ট চিরকুট দিয়ে যায়।

    তাতে গোটা গোটা হরফে লেখা ছিল, ‘আজ রাত দশটায় আপনি যদি আমাদের প্রাসাদের ওয়াচ টাওয়ারে আসেন, তাহলে খুব খুশি হব।’

    ললিতা যেন এর জন্যই অপেক্ষায় ছিল। সুশান্তের সঙ্গে একান্ত কিছু সময় কাটাবে এর চাইতে বড় আর কি হতে পারে! সে মনের মত সেজেগুজে তৈরি হয়ে চলে আসে। কিন্তু এখানে এসে রীতিমত চমকে ওঠে! টাওয়ারের উপরের খোলা চত্বরের চারপাশটা কি সুন্দর করে সাজানো হয়েছে! সুশান্ত তাকে যত্ন করে নিয়ে বসায় আর তারপর তাকে সরাসরি একেবারে ফিল্মি কায়দায় বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসে।

    ললিতা ভেবেছিল সুশান্ত হয়তো তাকে তার মনের কথা বলবে, কিন্তু সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসবে ভাবেনি। তবে সে ততক্ষণে সুশান্তের জাদুকরি মোহে এতটাই প্রেমাক্রান্ত হয়ে পড়েছে যে প্রস্তাব সেটা বিয়ের হোক কিংবা প্রেমের সবকিছুতেই সে রাজি। ফলে তার অনামিকায় সুশান্ত এই হীরের আংটিটা পরিয়ে দিয়ে তাকে নিজের করে নেয়।

    দুজনার একান্ত কিছু সময় কিভাবে কেটে যায় বলতে পারবে না ললিতা। উত্তেজনা আর ভালোবাসায় স্বপ্নের মত কাটতে থাকে সময়টা। ললিতা নিজের হোটেল রুমে না ফিরে এখানে সুশান্তের সঙ্গে পুরোটা রাত গল্প করে কাটাবার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে খানিক বাদেই তারা গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু ঠিক রাত তিনটায় ললিতার ঘুম ভেঙে যায়। বেশ খানিকক্ষণ সুশান্তের পাশে শুয়ে এপাশ ওপাশ করার পর, উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে টাওয়ারের খোলা চত্বরে এসে দাঁড়ায় ললিতা। সুশান্তের সাথে পরিচয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সবগুলো ঘটনা নিয়ে ভাবতে থাকে। সব মিলিয়ে একটা চমৎকার সুখানুভূতি তার শরীর ও মনকে আবেশে জড়িয়ে রাখে।

    হঠাৎ ললিতা শুনতে পায় সুশান্ত গান গাইছে। কি অদ্ভুত, মাত্রই তো দেখে এলো লোকটা গভীর ঘুমে অচেতন! অথচ পাশ থেকে উঠে আসতে না আসতেই গান ধরেছে সে? ঘুরে তাকিয়ে দেখে টাওয়ারের এক কোণে গদিতে তানপুরা হাতে বেশ আয়েশ করে বসে আছে সুশান্ত। চাঁদের আলোয় তাকে আরো বেশি সুপুরুষ দেখায়। ললিতা এক পা দু পা করে এগিয়ে এসে সুশান্তের সামনে একটা গদিতে গা এলিয়ে দিয়ে বসে। মনোযোগ দিয়ে শোনে সুশান্তের গান। সুশান্ত চোখ বন্ধ করে তানপুরা বাজিয়ে একনিষ্ঠ গায়কের মত গাইছে একটি রাগ ভৈরবী। কি চমৎকার লাগছে শুনতে! তবে আজ যেন সুশান্তের কণ্ঠ আরো বেশি সরস লাগছে তার। প্রেমে পড়লে কি তার প্রভাব মানুষের কণ্ঠেও পড়ে? ললিতা প্রশান্তির হাসি হেসে গদিতে শুয়ে চোখ বন্ধ করে গান শোনে।

    একসময় সুশান্ত গান গাওয়া থামায়। ললিতা ঘাড় ফিরিয়ে সুশান্তের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘থামলে কেন? বেশ তো লাগছিল!’

    সুশান্ত মৃদু হেসে জবাব দেয়, ‘শীঘ্রই আপনি রাজ পরিবারের পুত্রবধূ হতে যাছেন। তাই আপনার এভাবে যার তার সামনে শুয়ে বসে থাকাটা ভালো দেখায় না মিস ললিতা।’

    ‘মানে? কি বলছো তুমি সুশান্ত? যার তার সামনে কোথায়, আমি তো শুধু তোমার সামনেই এভাবে বসেছি!’

    ‘হ্যাঁ, কিন্তু আমার সামনেও এভাবে বসাটা আপনাকে মানায় না। আপনাকে এই সম্পর্কে আরো শিখতে হবে।’

    ললিতা এবার মুখ বেজার করে বলে, ‘নিজের হবু বরের সামনেও যদি হাত পা ছড়িয়ে একটু শুয়ে বসে থাকতে না পারি তাহলে কিন্তু আমি তোমার সঙ্গে বিয়েতে রাজি হব না বলে দিছি। এতটাও কাঠ খোট্টা জীবন আমার চাই না।’

    সুশান্ত হেসে বলে, ‘আপনাকে আমি কথা দিছি, সুশান্তের সঙ্গে আপনার জীবন কখনোই এতটা কাঠখোট্টা যাবে না। ও ভালো… ভীষণ ভালো! এবং আপনাকে অবশ্যই খুব ভালো রাখবে।’

    ‘সেই তখন থেকে আপনি আপনি করছো সুশান্ত! আর আমাকে ভালো রাখবে মানে কি?’

    এবার সুশান্ত তানপুরা রেখে উঠে দাঁড়ায়। তারপর ললিতার দিকে দু’পা এগিয়ে আসে। সুশান্তের হাঁটার ভঙ্গিটা তার কেমন অচেনা লাগে। হঠাৎ দূরে কোথাও সুশান্তের কণ্ঠ শুনতে পেয়ে চমকে ওঠে ললিতা। পেছনে শোবার ঘর থেকে যেন তাকে ডাকছে সুশান্ত। কিন্তু তা কি করে সম্ভব? সুশান্ত তো এখানে তার সামনে দাঁড়িয়ে। তাহলে ভেতর থেকে তাকে ডাকছে কে? ললিতা চমকে উঠে বসে। সুশান্ত আরো এগিয়ে এসে তার একটা হাত নিজের হাতে তুলে নেয়, তারপর তাতে আলতো করে চুমু খায়। তার স্পর্শে ললিতার পুরো শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে যায়। সরসর করে তার শরীরের প্রত্যেকটা পশম দাঁড়িয়ে যায়। সুশান্তের শরীর একেবারে বরফের মতো ঠান্ডা, কিন্তু তার হাতে চুমু খাওয়ার সময় তার আগুনের মতো তপ্ত নিঃশ্বাস ললিতার হাতটাকে যেন পুড়িয়ে দিতে চায়।

    ললিতা কেঁপে ওঠে। তাই দেখে সুশান্ত গম্ভীর কণ্ঠে বলে, ‘আপনাকে আমারও কিন্তু বেশ পছন্দ হয়েছে মিস ললিতা। আপনি কি আমার সঙ্গে থাকতে চান? নাকি সুশান্তের সঙ্গে?’

    ললিতা ভয়ে তার হাত ছাড়িয়ে নিতে চায়, কিন্তু সুশান্ত তার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখে। সুশান্তের হাতে যেন অসুরের শক্তি। ললিতা হাত ছাড়াবার জন্য ছটফট করে। তাই দেখে সুশান্তের ঠোঁটের কোনায় ক্রুর হাসি খেলে যায়। আতঙ্কে ললিতার হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়ার জোগাড় হয়।

    আর ঠিক তখনই পেছনে শোনা যায় সুশান্তের কণ্ঠ, ‘একি ললিতা! তুমি ওখানে এতো রাতে কি করছ?’

    ললিতা পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে ঘরের দরজার কাছে সুশান্ত রাতের পোশাকে দাঁড়িয়ে। সে ঝট করে ঘাড় ফিরিয়ে সামনে তাকায় তার হাত ধরে থাকা সুশান্তের দিকে।

    লোকটা গমগমে কণ্ঠে বলে ওঠে, ‘এখনো বোঝেননি আমি কে? আমি প্রশান্ত সিং, সুশান্তের ভাই। ’

    এবার ললিতাকে ধরে রাখা হাতটা ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে আসে এবং তাকে অবাক করে দিয়ে তার সামনে দণ্ডায়মান প্রশান্ত রাজস্থানের বালির মতো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে এক নিমিষে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। অজান্তেই ললিতার গলা থেকে একটা ভয়ার্ত চিৎকার বেরিয়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে জ্ঞান হারায়।

    পরদিন সকালে হোটেলে তার নিজের বিছানায় ঘুম ভাঙ্গে ললিতার। ললিতা চোখের সামনে তার বাম হাতটা তুলে দেখে। না, এটা স্বপ্ন ছিল না। কারণ তার অনামিকায় এখনো শোভা পাছে সুশান্তের দেয়া আংটিটা। কিন্তু তাহলে সে হোটেল রুমে এলো কি করে?

    কোন রকমে কাপড় বদলে সুশান্তের ব্যক্তিগত নাম্বারে ডায়াল করে তাকে বলে, ‘সুশান্ত, আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমার কিছু কথা ছিল তোমার সঙ্গে।’

    সুশান্ত বলে, ‘তোমাকে আসতে হবে না ললিতা। তুমি লক্ষী মেয়ের মতো নাস্তা সারো, আমি হাতের কাজগুলো গুছিয়ে আসছি।’

    ললিতার গলা দিয়ে খাবার নামে না। সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে সুশান্তের। একটু পরে সুশান্ত এসে ঘরে ঢুকে। ললিতা প্রায় উড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে সুশান্তকে।

    সুশান্ত তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘কী হয়েছে তোমার ললিতা?’

    ‘তার আগে তুমি বলো, এই হোটেলে প্রশান্তের ভূতের যে গল্পটা প্রচলিত আছে সেটা সত্যি কিনা।’

    সুশান্ত এবার ললিতার চোখে চোখ রাখে, তারপর তাকে টেনে এনে বসিয়ে দেয় সোফায়। সে নিজেও তার পাশে বসে তার মাথায় হাত রেখে তাকে আদর করে দেয়।

    তারপর মৃদু কণ্ঠে বলে, ‘আমি খুবই দুঃখিত ললিতা! আমি বুঝতে পারিনি প্রশান্ত তোমার সঙ্গে এমনটা করবে। রাজ পরিবার চালনা করা এত সহজ নয় ললিতা। তার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। একসময় রাজ্যের ক্ষমতা আমাদের হাতে ছিল, সে সময় আমাদের জীবন যতটা বিলাসিতায় কাটতো তার অনেকটাই থেমে যায় ক্ষমতা হারাবার পর। হ্যাঁ ব্যবসা-বাণিজ্য আর প্রচুর সহায়-সম্পত্তি থাকায় আমাদের বাৎসরিক আয় খারাপ না, তবে পূর্বের বিলাসিতা রক্ষা করার জন্য এটুকু যথেষ্ট ছিল না। এদিকে আমার সব সময় মন পড়ে থাকত গান বাজনায়। তাছাড়া প্রশান্ত মারা যাবার পর নিজেকে খুব একা লাগতো। মাঝে মাঝে আমার যখন প্রশান্তের কথা খুব মনে পড়তো তখন এই ওয়াচ টাওয়ারে এসে বসে থাকতাম। এক রাতে এসে দেখি প্রশান্ত বসে আছে, গান করছে! আমাকে দেখে সে আনন্দিত কণ্ঠে বলে, এসো ভাই, আমরা দুজন একসঙ্গে গান করি। রাজ পরিবারের চালচলন শিক্ষা সবকিছু নিয়ে আমি একাকী এতটাই হাঁপিয়ে উঠেছিলাম যে আমার মনেই থাকল না যে প্রশান্ত মারা গেছে। আমি তার সঙ্গে নির্দ্বিধায় গান গাইতে শুরু করলাম। এরপর থেকে প্রতি রাতেই আমি চুপিচুপি এই টাওয়ারে চলে আসতাম এবং দুজন মিলে মনের সুখে গান করতাম। কিন্তু খবরটা চাপা থাকলো না। প্রশান্তকে সবাই দেখতে পায় না, তবে আমাকে দেখে। সবাই রাতের আঁধারে আমাকেই প্রশান্ত ভাবতে শুরু করে। তখন আবার মাথায় আসে এই বুদ্ধিটা। রাজপ্রাসাদের এই অংশটা যদি পাঁচ তারা হোটেল করা হয় তাহলে আমাদের বাৎসরিক আয় যেমন বাড়বে সেইসঙ্গে আমার শখটাও পূরণ হবে। প্রশান্ত আমাকে কথা দেয় আমি যদি প্রতিদিন টাওয়ারে উঠে তাকে গান শোনাই, তাহলে সে আর কোন উৎপাত করবে না। শুধু গান শুনবে। আমি প্রশান্তের ভূতের দোহাই দিয়ে এখানে হোটেল দাঁড় করাই। সেইসঙ্গে নিজে তালিম নিয়ে ভালোভাবে এখানে গানের আসর চালু করি। তবে সমস্যা হয় যেদিনই আমি একটু ব্যস্ততার জন্য গানের আসর বসাতে পারি না, প্রশান্ত সেদিন এখানে এসে গান গাওয়া শুরু করে। হাজার বলেও তাকে বোঝাতে পারিনা। প্রতি রাতে তার গান শোনা চাই। তাই আমি রাজপ্রাসাদ থেকে কোন কাজে বাইরে গেলেও এখানে প্রতি রাতে আসর বসাতেই হয়। তবু হোটেলে ভূতের গল্প আবার চাউর হয়ে যায় এবং অতিথিদের আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে অনেক আগে একবার অরুণ মিত্র আমাদের হোটেলে অতিথি হয়ে এসেছিলেন, যাবার সময় তিনি আমাকে তার কন্টাক্ট নাম্বার দিয়ে গিয়েছিলেন। আমি তার সঙ্গে আলাপ করে তাকে অনুরোধ করি, এখানে যে ভূত নেই এই ব্যাপারটা যেন তার চ্যানেল থেকে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। যাতে আমার হোটেল আগের মত সরগরম হয়। আর সেই উদ্দেশ্যেই তোমাকে এখানে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ঘটনা সত্যি ললিতা। এখানে প্রশান্তের ভূত রয়েছে এবং যদি কোনদিন কোন কারণে রাতে এখানে গানের আসর না বসে তাহলে সে নিজেই গান-বাজনা করতে চলে আসে। হাজার মানা করেও তাকে লাভ হয়নি কোন। গতকাল রাতে আমি তোমাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, চেয়েছিলাম একটা নিরিবিলি পরিবেশে শুধু তুমি আর আমি রাতটাকে চির স্মরণীয় করে রাখবো। প্রশান্ত আমাকে কথা দিয়েছিল সে অন্তত গতকাল রাতে আমাদের বিরক্ত করবে না। কিন্তু আমি দুঃখিত! প্রতিবারের মতো এবারও প্রশান্ত তার কথা রাখেনি!’

    ললিতা কি বলবে ভেবে পায়না। গত রাতে সে যতটা না ভয় পেয়েছিল তার চাইতেও বেশি ভয় তার এখন হছে। যতবার সে ভাবছে গতকাল রাতে একটা জলজ্যান্ত ভুত তার হাতের পিঠে চুমু খেয়েছে ততবার তার গা গুলিয়ে আসে।

    সুশান্ত তার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নেয়। হঠাৎ অস্ফুট একটা শব্দ করে বলে, ‘তোমার হাতে কী হয়েছে ললিতা?’

    ললিতা তাকিয়ে দেখে গতকাল রাতে প্রশান্ত তার ডান হাতের পিঠে যেখানে চুমু খেয়েছিল সেই জায়গাটুকুতে অদ্ভুত একটা নীলচে পোড়া দাগ। সকালে উত্তেজনায় ব্যাপারটা তার চোখেই পড়েনি। ললিতা সুশান্তের হাতে সঁপে রাখা তার টকটকে ফর্সা হাতের পিঠের পোড়া দাগটার দিকে তাকিয়ে ভয়ে কেঁপে ওঠে।

    সুশান্ত কি বুঝে কে জানে! সে ললিতাকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘আমাদের গাইয়ে ভূতের হোটেলে তোমাকে স্বাগতম ললিতা।’

    কিন্তু ললিতার কানে সে কথা পৌঁছায় না। তার কানে তখনো প্রতিধ্বনি তুলছে গতকাল রাতে প্রশান্তের প্রস্তাবটা।

    ‘আছা, সুশান্তের মতো প্রশান্তও কি তার প্রেমে পড়েছে?’

    Previous Articleমাটির ঢেলা ও অগ্নি : মো. জাকের হায়াত খান
    Next Article কাঠগোলাপ : ফারহানা জেসমিন মনি

    এ বিষয়ে আরও লেখা

    স্যাংশন : অহেদুজ্জামান

    নীল শার্ট : এহছানুল মালিকী

    একটি পেয়ারা গাছের কথা : পবিত্র সরকার

    ফেরা : মাহমুদ শরীফ

    এক টুকরো কাগজ ও দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি : সৈয়দ জুনায়েদ

    একদা পাত্রীর বাবা বেবিট্যাক্সির মালিক ছিল : রফিকুল ইসলাম সাগর

    অসমাপ্ত প্রেম চিঠি : মো. ইমরান খান

    যে গল্প কবিতার মতো বেদনার : শফিক মুন্সি

    নির্জন দ্বীপে কিশোর দল : সাগর আহমেদ

    জীবনের কিছু কথা : ইসরাত রুবাইয়া

    শরীরীয় প্রেতাত্মার কথকতা : কুসুম আক্তার নেকিজা

    কেউ কারো নেই : শহিদুল ইসলাম খোকন

    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    সাম্প্রতিক লেখা

    অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে : সেলিনা হোসেন (সাক্ষাৎকার)

    আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা : দেবেশ চন্দ্র সান্যাল (স্মৃতিচারণ)

    অদম্য কিশোর : শিবুকান্তি দাশ

    ছদ্মবেশী : শারমিন প্রিয়া

    অধিকার : অমল বিশ্বাস

    খোকন সোনা : মুহাম্মদ নূর ইসলাম

    ভুলে যেতে : মো. আমজাদ হোসেন

    বাহাদুরি : বিজন বেপারী

    চিরচেনা নাট্যমন্দির রোড! : আজমির রহমান রিশাদ

    মুখ মুখোশের আড়ালে : মুহিতুল ইসলাম মুন্না

    বেওয়ারিশ সম্পর্ক : বিপ্লব হোসেন

    সোনা মোড়ানো নুড়ি পাথর : মুসলেহা সুলতানা

    অভিমানী আমি : নাজমুন নাহার লাডলী

    অনুরক্তি : মো. জয়নুল ইসলাম

    তোমাকে পাওয়ার জন্য হে সফলতা : প্রহ্লাদ কুমার প্রভাস

    দান : আফছানা খানম অথৈ

    রোজা : রুমানা আক্তার রত্না

    মানুষ : নিহাদ হোসাইন

    ভাঙা চুড়ি : নয়ন আলী নাঈম

    স্মৃতির সারথি : ইয়াছিন আরাফাত

    আমাদের সম্পর্কে

    সূর্যাক্ষর বাংলাদেশের একটি উদিয়মান প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার বই প্রকাশের পাশাপাশি আমরা লিটলম্যাগ প্রকাশ করি। লিটলম্যাগের ক্ষেত্রে আমাদের দুটি মাধ্যম আছে। একটি অনলাইন পোর্টাল, আরেকটি ছাপা ম্যাগাজিন।

    যোগাযোগ
    • ঠিকানা: ৭৯/২/বি, ৯ নং লেন, কদমতলা, বাসাবো, ঢাকা-১২১৪
    • মোবাইল: ০১৭৩৭৭২৪০৬৯, ০১৭৮২৩৭৯৮৩৭
    • ইমেইল: ‍surjakkhor@gmail.com
    • ফেইসবুক গ্রুপ: www.facebook.com/groups/surjakkhor
    লেখা আহ্বান

    প্রবন্ধ, ছড়া-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সাহিত্য সমালোচনা, অনুবাদ, ভ্রমণকাহিনি, চলমান ইস্যু নিয়ে আলোচনাসহ যেকোনো ধরনের লেখা পাঠানো যাবে। প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের একেকটা পর্ব কমপক্ষে এক হাজার শব্দের হতে হবে। কবিতায় শব্দ সংখ্যার সীমা নেই। তবে কমপক্ষে ১০/১২ লাইনের হলে ভালো হয়, ছোট হলে ছাপানো হবে না, এমনটা নয়। বড় হলেও চলবে। ই-মেইল: surjakkhor@gmail.com

    কপিরাইট সূর্যাক্ষর প্রকাশনী | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.